০৮:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় গভর্নরের কাছে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ৭ দফা দাবিতে স্মারকলিপি

  • Md.Rasel Khan
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
  • 138

ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় গভর্নরের কাছে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ৭ দফা দাবিতে স্মারকলিপি

ধ্বংসের হাত থেকে ইসলামী ব্যাংককে রক্ষা করার লক্ষ্যে সাত দফা দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে ফোরামের নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। এ সময় ইসলামী ব্যাংকের ভুক্তভোগী শেয়ারহোল্ডার ও সাধারণ গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্মারকলিপি প্রদান শেষে ব্যাংক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিক। তিনি জানান, ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে যেসব বৈধ শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তা অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়া এবং অংশীজনদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।

অধ্যাপক নুর নবী মানিক আরও জানান, তাদের বাকি দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এস আলমসহ যারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া, লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার ও এস আলমের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা। এছাড়া ইসলামী ব্যাংকগুলোতে বিরাজমান আতঙ্ক দূর করতে যেকোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারকে বিরত থাকা, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা সংশোধনের মাধ্যমে লুটেরাদের পুনর্বাসনের ছদ্মবেশী সুযোগ বাতিল করা এবং জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অসত্য বক্তব্য ও এস আলমের হাতে পুনরায় ব্যাংক তুলে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন আভাস অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবিও জানানো হয়। নেতৃবৃন্দের আশা, এই সাত দফা দাবি মেনে নেওয়া হলে ইসলামী ব্যাংকে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে ফোরামের আহ্বায়ক উল্লেখ করেন যে, ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর সময়ের ব্যবধানে ইসলামী ব্যাংক এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও আদর্শ ব্যাংক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। তখন এই ব্যাংকের ডিপোজিট, বিনিয়োগ, বৈদেশিক বাণিজ্য, সিএসআর এবং মুনাফা দেশের অন্য যেকোনো ১০টি ব্যাংকের সম্মিলিত অর্জনের চেয়েও বেশি ছিল। এমনকি দেশের মোট রেমিট্যান্সের ৩ ভাগের ১ ভাগ একাই সংগ্রহ করত ইসলামী ব্যাংক। গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাস এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছিল যে, স্বাভাবিক বিনিয়োগের পরেও ব্যাংকে বিপুল উদ্বৃত্ত তহবিল জমা থাকত। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের সেই গৌরবময় ধারাবাহিকতা ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হলে ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের মালিকানা ফিরিয়ে দিয়ে তাদের সমন্বয়ে দ্রুত পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা অত্যন্ত জরুরি।

29 October 2026

ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় গভর্নরের কাছে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ৭ দফা দাবিতে স্মারকলিপি

Spread the love
জনপ্রিয়

পার্বত্য চট্টগ্রামে সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন সেনাপ্রধান

ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় গভর্নরের কাছে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ৭ দফা দাবিতে স্মারকলিপি

আপডেট সময় : ০৭:৪৮:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

ধ্বংসের হাত থেকে ইসলামী ব্যাংককে রক্ষা করার লক্ষ্যে সাত দফা দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে ফোরামের নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ ব্যাংকে গিয়ে এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। এ সময় ইসলামী ব্যাংকের ভুক্তভোগী শেয়ারহোল্ডার ও সাধারণ গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্মারকলিপি প্রদান শেষে ব্যাংক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিক। তিনি জানান, ২০১৭ সালে রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে যেসব বৈধ শেয়ারহোল্ডারদের মালিকানা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তা অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়া এবং অংশীজনদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।

অধ্যাপক নুর নবী মানিক আরও জানান, তাদের বাকি দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—ব্যাংক লুটেরাদের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এস আলমসহ যারা হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া, লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার ও এস আলমের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা। এছাড়া ইসলামী ব্যাংকগুলোতে বিরাজমান আতঙ্ক দূর করতে যেকোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারকে বিরত থাকা, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৮/ক ধারা সংশোধনের মাধ্যমে লুটেরাদের পুনর্বাসনের ছদ্মবেশী সুযোগ বাতিল করা এবং জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অসত্য বক্তব্য ও এস আলমের হাতে পুনরায় ব্যাংক তুলে দেওয়ার প্রচ্ছন্ন আভাস অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করার দাবিও জানানো হয়। নেতৃবৃন্দের আশা, এই সাত দফা দাবি মেনে নেওয়া হলে ইসলামী ব্যাংকে দ্রুত স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে ফোরামের আহ্বায়ক উল্লেখ করেন যে, ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর সময়ের ব্যবধানে ইসলামী ব্যাংক এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও আদর্শ ব্যাংক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিল। তখন এই ব্যাংকের ডিপোজিট, বিনিয়োগ, বৈদেশিক বাণিজ্য, সিএসআর এবং মুনাফা দেশের অন্য যেকোনো ১০টি ব্যাংকের সম্মিলিত অর্জনের চেয়েও বেশি ছিল। এমনকি দেশের মোট রেমিট্যান্সের ৩ ভাগের ১ ভাগ একাই সংগ্রহ করত ইসলামী ব্যাংক। গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাস এমন এক উচ্চতায় পৌঁছেছিল যে, স্বাভাবিক বিনিয়োগের পরেও ব্যাংকে বিপুল উদ্বৃত্ত তহবিল জমা থাকত। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের সেই গৌরবময় ধারাবাহিকতা ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে হলে ব্যাংকের প্রকৃত মালিকদের মালিকানা ফিরিয়ে দিয়ে তাদের সমন্বয়ে দ্রুত পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা অত্যন্ত জরুরি।

29 October 2026

ইসলামী ব্যাংক রক্ষায় গভর্নরের কাছে সচেতন গ্রাহক ফোরামের ৭ দফা দাবিতে স্মারকলিপি

Spread the love