প্রবাসের মাটিতে একটি সুন্দর সন্ধ্যা মুহূর্তের ব্যবধানে পরিণত হলো অনন্ত বিষাদে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবিতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশি প্রকৌশলী স্বরূপ কান্তি বিশ্বাসের স্ত্রী অসীমা চৌধুরী ও তাঁদের একমাত্র ছেলে অরিত্র বিশ্বাস। গুরুতর আহত স্বরূপ কান্তি বিশ্বাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তিনি এখন আশঙ্কামুক্ত।
নিহত অসীমা চৌধুরীর পৈতৃক নিবাস চট্টগ্রামের রাউজানে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স কত ছিল, তা জানা যায়নি। তাঁর সন্তান অরিত্রের বয়স ছিল মাত্র ১৫ বছর। এ দম্পতির আরও একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। এক রাতের দুর্ঘটনায় সেই কিশোরী হারাল মা ও ভাইকে।
গত সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত নয়টার দিকে আবুধাবির আল আইন রোডের আল ওয়াতবা ব্রিজ এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পরিবারটি গাড়িতে করে রওনা হয়েছিল। চালকের আসনে ছিলেন স্বরূপ কান্তি নিজেই। পথে হঠাৎ পেছন থেকে ছুটে আসা একটি দ্রুতগামী গাড়ি তাঁদের গাড়িটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। প্রচণ্ড আঘাতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি সড়কের রেলিংয়ে আছড়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই দুমড়েমুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই ছিল যে ঘটনাস্থলেই মা ও ছেলের মৃত্যু হয়। রক্তাক্ত ও মারাত্মক আহত অবস্থায় স্বরূপ কান্তিকে উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জীবনের সবচেয়ে প্রিয় দুজন মানুষকে হারানোর এই নির্মম সংবাদ সামলে ওঠার শক্তি তিনি কীভাবে পাবেন, সে প্রশ্ন এখন সবার মনে।
নিহত অসীমা ও অরিত্রের মরদেহ বর্তমানে আবুধাবির বানিয়াস এলাকার কেন্দ্রীয় মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় কমিউনিটি নেতারা ও স্বজনেরা। সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে প্রিয় জন্মভূমির মাটিতেই শেষ বিদায় জানানো হবে মা ও ছেলেকে।
প্রবাসজীবনের নিরন্তর সংগ্রামের মাঝেও পরিবার ছিল যাঁর সবচেয়ে বড় আশ্রয়, সেই স্বরূপ কান্তি আজ হাসপাতালের শয্যায় শোকে স্তব্ধ। আর রাউজানের স্বজনদের কাছে এ খবর যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।






















