চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার অনুপনগরে মিজানুর রহমান (২২) নামে এক শ্রমিককে হত্যার ঘটনায় শাহিন আলী (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। এ সময় তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে শাহিন ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার শাহিন আলী অনুপনগর ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া গ্রামের জুয়েল রানার ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত মিজানুর রহমান একই এলাকার মৃত শফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি বিভিন্ন ধরনের শ্রমিকের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মিজানুরকে বাড়িতে দেখতে পান তার মা রুবেদা বেগম। পরে রাতের খাবার শেষে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন।
পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে প্রতিবেশী ও রুবেদা বেগমের মামাতো ভাই কাউসার আলী তাকে জানান, মিজানুরকে কে বা কারা হত্যা করে অনুপনগর সেবা ইটভাটার চলাচলের রাস্তায় ফেলে রেখেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে যেকোনো সময়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো চাকু দিয়ে মিজানুরকে আঘাত করে হত্যা করে মরদেহ ঘটনাস্থলে ফেলে যায়।
এ ঘটনায় নিহতের মা রুবেদা বেগম বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলা করেন। মামলাটি সদর মডেল থানার মামলা নম্বর-০১, তারিখ ১ অক্টোবর ২০২৬; জিআর-৪৯০/২০২৬। এতে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই (নিরস্ত্র) মো. বেল্লাল হোসেনের ওপর।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন, পিপিএম জানায়, পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাসের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াসিন আরাফাত ও আমার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তদন্তে নামে।
তদন্তের একপর্যায়ে বিভিন্ন তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে শাহিন আলীর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। পরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বসতবাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, পরবর্তীতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য শাহিন আলীকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তিনি ঘটনার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হত্যাকাণ্ডে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।






















