মোঃ সজিব সরদার : পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ খায়রুল ইসলাম চৌধুরীকে অপসরণের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরালো করার ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় ছাত্র-জনতা। গত ১১ আগস্ট উপজেলা পরিষদের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের মাধ্যমে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে অপসারণের দাবি জানানো হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে নিউ স্টার চাইনিজ রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেত্রী সারমিন আক্তার স্বর্ণা লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ১৬ আগস্টের মধ্যে দাবি মেনে না নেওয়া হলে ১৭ আগস্ট সকাল থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনসহ লাগাতার কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।
ছাত্র-জনতার অভিযোগ, ইউএনও অফিসে অনিয়মিত উপস্থিত থাকেন, সেবাপ্রার্থীদের যথাযথ সেবা প্রদান করেন না এবং জরুরি প্রয়োজনে ফোনেও সাড়া দেন না। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ, জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে তাঁর কার্যকর ভূমিকা না থাকাসহ দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন অনিয়ম ও গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। এরই মধ্যে দুমকীর এ. কে. বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব ও প্রতিরোধের উপায়’ শীর্ষক এক সচেতনতামূলক আলোচনা সভায় ইউএনওর ঘুমানোর একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে চরম সমালোচনা শুরু হয়। গুরুত্বপূর্ণ একটি সভায় সভাপতির আসনে বসে তাঁর এমন আচরণ দায়িত্বশীলতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করেন।
উত্থাপিত অভিযোগের ব্যাপারে ইউএনও অডিও বা ভিডিওতে কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান যে পুরো বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।























