১২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খোকসায় লোডশেডিং নিরসনে ৪ নম্বর ফিডার বিভক্তিকরণের কাজ শুরু

খোকসায় লোডশেডিং নিরসনে ৪ নম্বর ফিডার বিভক্তিকরণের কাজ শুরু

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার গোপগ্রাম, জয়ন্তীহাজরা, আমবাড়িয়া ও নিশ্চিন্তবাড়িয়া এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের লোডশেডিংজনিত সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষ্যে ৪ নম্বর ফিডারকে দুটি পৃথক ফিডারে বিভক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে এই কাজ শুরু হয় বলে নিশ্চিত করেছে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির খোকসা সাবজোনাল অফিস কর্তৃপক্ষ। কাজটি সম্পন্ন হতে আনুমানিক তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে। লাইন নির্মাণ ও বিভাজনের মাধ্যমে ৪ নম্বর ফিডারের অতিরিক্ত লোড কমে আসবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত এক বছরে উক্ত এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে প্রায় ৫ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। বরাদ্দকৃত বিদ্যুতের পরিমাণ ৫ মেগাওয়াটের কম হলে লোডশেডিং চলাকালীন স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার পর সরবরাহ ফের চালু হলে গ্রাহকরা একই সাথে তাঁতের মেশিন, পানির মোটরসহ বিভিন্ন যন্ত্র চালু করেন। এতে মুহূর্তেই বিদ্যুতের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ফিডারের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করে। কখনো কখনো তা জাতীয় গ্রিডের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করায় নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো উপজেলার প্রধান লাইন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। পাশাপাশি এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াকেও বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

খোকসা সাবজোনাল অফিসের এজিএম প্রকৌশলী মো: আব্দুল কাদের জিলানী জানান, বিদ্যমান কারিগরি সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ৪ নম্বর ফিডারকে দুটি পৃথক অংশে বিভক্ত করা হচ্ছে। এতে উভয় ফিডারে লোড ভাগ হয়ে যাবে, চাপ হ্রাস পাবে এবং লোডশেডিংয়ের সময় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে। কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিজস্বভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না; জাতীয় গ্রিড থেকে প্রাপ্ত বরাদ্দ গ্রাহকদের মাঝে বিতরণ করে। তাই বরাদ্দের তুলনায় স্থানীয় চাহিদা বেশি থাকলে তাৎক্ষণিক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হয় না। এই উন্নয়ন কাজ দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছে কর্তৃপক্ষ এবং কাজটি চূড়ান্তভাবে শেষ হলে গোপগ্রাম, জয়ন্তীহাজরা, আমবাড়িয়া ও নিশ্চিন্তবাড়িয়া অঞ্চলের বিদ্যুৎ সংকটের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে মনে করছে তারা।

14 September 2026

খোকসায় লোডশেডিং নিরসনে ৪ নম্বর ফিডার বিভক্তিকরণের কাজ শুরু

জনপ্রিয়

স্পেনের বার্সেলোনায় শিবচর প্রবাসী ঐক্য পরিষদের বর্ণাঢ্য অভিষেক অনুষ্ঠানের আয়োজন

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

খোকসায় লোডশেডিং নিরসনে ৪ নম্বর ফিডার বিভক্তিকরণের কাজ শুরু

আপডেট সময় : ১২:৪৪:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার গোপগ্রাম, জয়ন্তীহাজরা, আমবাড়িয়া ও নিশ্চিন্তবাড়িয়া এলাকার বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের লোডশেডিংজনিত সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষ্যে ৪ নম্বর ফিডারকে দুটি পৃথক ফিডারে বিভক্ত করার কাজ শুরু হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে এই কাজ শুরু হয় বলে নিশ্চিত করেছে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির খোকসা সাবজোনাল অফিস কর্তৃপক্ষ। কাজটি সম্পন্ন হতে আনুমানিক তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে। লাইন নির্মাণ ও বিভাজনের মাধ্যমে ৪ নম্বর ফিডারের অতিরিক্ত লোড কমে আসবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত এক বছরে উক্ত এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে প্রায় ৫ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। বরাদ্দকৃত বিদ্যুতের পরিমাণ ৫ মেগাওয়াটের কম হলে লোডশেডিং চলাকালীন স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার পর সরবরাহ ফের চালু হলে গ্রাহকরা একই সাথে তাঁতের মেশিন, পানির মোটরসহ বিভিন্ন যন্ত্র চালু করেন। এতে মুহূর্তেই বিদ্যুতের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে ফিডারের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করে। কখনো কখনো তা জাতীয় গ্রিডের নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করায় নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো উপজেলার প্রধান লাইন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। পাশাপাশি এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াকেও বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

খোকসা সাবজোনাল অফিসের এজিএম প্রকৌশলী মো: আব্দুল কাদের জিলানী জানান, বিদ্যমান কারিগরি সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ৪ নম্বর ফিডারকে দুটি পৃথক অংশে বিভক্ত করা হচ্ছে। এতে উভয় ফিডারে লোড ভাগ হয়ে যাবে, চাপ হ্রাস পাবে এবং লোডশেডিংয়ের সময় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে। কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে যে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিজস্বভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে না; জাতীয় গ্রিড থেকে প্রাপ্ত বরাদ্দ গ্রাহকদের মাঝে বিতরণ করে। তাই বরাদ্দের তুলনায় স্থানীয় চাহিদা বেশি থাকলে তাৎক্ষণিক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব হয় না। এই উন্নয়ন কাজ দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে শেষ করতে এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছে কর্তৃপক্ষ এবং কাজটি চূড়ান্তভাবে শেষ হলে গোপগ্রাম, জয়ন্তীহাজরা, আমবাড়িয়া ও নিশ্চিন্তবাড়িয়া অঞ্চলের বিদ্যুৎ সংকটের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে মনে করছে তারা।

14 September 2026

খোকসায় লোডশেডিং নিরসনে ৪ নম্বর ফিডার বিভক্তিকরণের কাজ শুরু