বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে একটি কঠিন রাজনৈতিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নতুন সরকার পেয়েছে। এই নতুন পথচলায় বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অত্যন্ত আগ্রহী বলে জানিয়েছেন জার্মানির ফেডারেল ফরেন অফিসের (এফএফও) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মহাপরিচালক ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান। আজ মঙ্গলবার জার্মান দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এফএফও’র দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের প্রধান স্টিফেন কোখ এবং মহাপরিচালক ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান গত ৯ থেকে ১১ জুন বাংলাদেশ সফর করেন। সফরকালে জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজের উপস্থিতিতে প্রতিনিধি দলটি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং মহাপরিচালক (পশ্চিম ইউরোপ ও ইইউ) মোশাররফ হোসেনের সাথে পৃথক সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকগুলোতে দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশ-ইইউ সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এ সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের আগ্রহের কথা তুলে ধরা হয়।
দ্বিপক্ষীয় আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল রোহিঙ্গা সংকট। বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান। জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জার্মানি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন। জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই ধরনের উচ্চপর্যায়ের সফর জার্মানি ও বাংলাদেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার পথ উন্মুক্ত করবে।
প্রতিনিধি দলটি সফরকালে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সাথেও একটি বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর করা, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং তৈরি পোশাকের পাশাপাশি চামড়া, পাট ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে বর্তমান সরকারের নেওয়া নানা উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। জবাবে ফ্রাঙ্ক হার্টম্যান স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের চূড়ান্ত উত্তরণের আগেই প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং রপ্তানি খাতকে বহুমুখীকরণের পরামর্শ দেন। এছাড়া, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং টেকসই উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সরাসরি পরিদর্শনের জন্য জার্মান প্রতিনিধি দলটি কাশিমপুরে অবস্থিত ডিবিএল গ্রুপের একটি টেক্সটাইল ম্যানুফ্যাকচারিং কারখানা ঘুরে দেখেন।


Md.Rasel Khan 




















