কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি মানুষের জন্য বিপুল সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর অনিয়ন্ত্রিত বিকাশ মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। সম্প্রতি এআই গবেষণাপ্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের সাবেক ২৭ বছর বয়সী গবেষক প্রাক-পদত্যাগী জ্যাকব কক্সন সতর্ক করে জানান, এআইয়ের অগ্রগতির বর্তমান গতি থামানো বা কমানো না হলে অদূর ভবিষ্যতে মানবজাতির বিলুপ্তির মতো ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার বিষয়টি মাথায় রেখে এআই নিয়ন্ত্রণ ও সুরক্ষার উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি চীনকেও যুক্ত করার ওপর জোর দেন তিনি।
অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই, ওপেনএআই প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং এক্সএআই প্রধান ইলন মাস্কও এআই খাতের উন্নয়নে আরও সতর্কতা, কঠোর নিয়মনীতি ও স্বাধীন তদারকির পক্ষে মত দিয়েছেন। দারিও আমোদেই এক নিবন্ধে উল্লেখ করেন, আগামী ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে বিপুলসংখ্যক স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট দলবদ্ধ হয়ে পুরো ইন্টারনেটের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে, যা শত শত বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি ও তীব্র নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে। তিনি এআইয়ের উন্নয়ন পুরোপুরি বন্ধ না করে, মডেলগুলোকে নিরাপদ করা এবং স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তা যাচাইয়ের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার আহ্বান জানান।
অ্যানথ্রোপিক সম্প্রতি একটি ‘থ্রেট ইন্টেলিজেন্স’ প্রতিবেদনে প্রকাশ করেছে কীভাবে অপশক্তি তাদের ‘ক্লড’ মডেল ব্যবহার করে সাইবার হামলা, অস্ত্র তৈরি ও জালিয়াতির চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব মডেলগুলো সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় বাইরের সিস্টেমে হ্যাক বা প্রবেশ করার একাধিক ঘটনাও সামনে এসেছে। অন্যদিকে, ওপেনএআই-এর নিয়ন্ত্রণহীন এআই এজেন্ট দ্বারা জার্মানির একটি ওয়েবসাইট হাইজ্যাক হওয়া এবং হাগিং ফেস প্ল্যাটফর্মে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাই প্রমাণ করে যে, এআইয়ের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানুষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি কতটা দ্রুত বাড়ছে।
এই উদীয়মান ঝুঁকি মোকাবিলায় রাজনৈতিক স্তরেও উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বেসরকারি খাতে এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত গতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নীতি ও শাসনসংক্রান্ত কার্যকর কর্মসূচির তাগিদ দিয়েছেন। মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও এআইয়ের অগ্রগতি ধীর করার আহ্বানকে সমর্থন জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে সমন্বিত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। সব মিলিয়ে, এআই প্রযুক্তির সুফল নিশ্চিত করতে এর সঠিক নিয়ন্ত্রণ, কঠোর নিরাপত্তা যাচাই ও বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা এখন সবচেয়ে বড় আলোচ্য বিষয়।






















