ঢাকা, ৯ জুন ২০২৬: বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে তৈরি হওয়া সব ধরনের ধূম্রজাল ও সংশয় অবশেষে কেটে গেছে। দেশের ফুটবলপ্রেমীরা এবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভিসহ স্বত্বাধিকারী অন্যান্য মাধ্যমে সরাসরি খেলা দেখার সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে দর্শকদের সুবিধার্থে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বড় পর্দায় খেলা দেখানোর বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার।মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক এই তথ্য নিশ্চিত করেন।প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।মধ্যরাত ও ভোরে খেলা: বড় পর্দার বিশেষ উদ্যোগবিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উন্মাদনা সর্বজনবিদিত উল্লেখ করে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন,”বেশ কিছুদিন ধরে খেলা সম্প্রচার নিয়ে একটি ধূম্রজাল তৈরি হয়েছিল, যা আজ পুরোপুরি নিরসন করা হলো। বিটিভির মাধ্যমে এবং যারা স্বত্ব নিয়েছে, তাদের মাধ্যমে সারাদেশের মানুষ বিশ্বকাপ ফুটবল উপভোগ করতে পারবেন।”এবারের বিশ্বকাপের খেলাগুলোর সময়সূচি মধ্যরাত কিংবা ভোরে হওয়ার কারণে দর্শকদের সুবিধার্থে বিশেষ পদক্ষেপের কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেশ কিছু বেসরকারি কোম্পানি ইতিমধ্যে সরকারের সাথে যোগাযোগ করেছে। সময় বিবেচনা করে প্রাইভেট কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে। ফলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্পটে বড় বড় মনিটর ও ডিজিটাল বিলবোর্ডের মাধ্যমে খেলাগুলো সরাসরি বড় পর্দায় দেখার সুযোগ মিলবে।খরচ কমলো অর্ধেকেরও বেশি, নিশ্চিত হলো শতভাগ স্বচ্ছতাসম্প্রচার প্রক্রিয়ায় বর্তমান সরকারের সাশ্রয়ী নীতি ও অভাবনীয় স্বচ্ছতার কথা উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি পূর্ববর্তী সরকারের সাথে খরচের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন:খাতবিগত সরকারবর্তমান সরকারসম্প্রচার স্বত্ব কেনার ব্যয়১০০ কোটি টাকা৪৭ কোটি টাকাআর্থিক সাশ্রয়—৫৩ কোটি টাকাপ্রক্রিয়া-সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলকপ্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে মাত্র ৪৭ কোটি টাকায় এই স্বত্ব কিনেছে, যেখানে বিগত সরকারের আমলে ব্যয় হয়েছিল ১০০ কোটি টাকা।তিনি আরও যোগ করেন, এই ৪৭ কোটি টাকাও বিভিন্ন বিজ্ঞাপন স্বত্ব (এডভারটাইজমেন্ট রাইটস) বিক্রির মাধ্যমে তুলে আনা সম্ভব হবে। ফলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকা সম্পূর্ণ সাশ্রয় হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক অবস্থান বজায় রেখেই এই সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।সবশেষে, দেশের সকল ফুটবলপ্রেমীকে এই আনন্দের অংশীদার করতে এবং সরকারের এই যুগান্তকারী ও স্বচ্ছ উদ্যোগটি জনগণের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।























