চলতি ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে বড়সড় এক ধাক্কা খেলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। কাফ ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় সেলেসাওদের পোস্টার বয় নেইমার জুনিয়র সম্ভবত গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলো থেকে ছিটকে গেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মাধ্যম ইএসপিএন-এর একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে নিয়ে কোনো রকম তাড়াহুড়ো করতে নারাজ ব্রাজিলের মেডিকেল টিম। তাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে, নকআউট পর্বের আগেই নেইমারকে শতভাগ ফিট করে মাঠে ফেরানো। এর আগে গত ১৭ মে সান্তোসের হয়ে খেলার সময় ডান পায়ের কাফে ‘গ্রেড-টু’ পেশির চোটে পড়েছিলেন তিনি। সেই বড় চোটের শঙ্কা মাথায় নিয়েই শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত হন এই মহাতারকা।
সম্প্রতি নিউ ইয়র্ক রেড বুলস ट्रेनिंग সেন্টারে সোমবারের অনুশীলনেও দলের সাথে মূল মাঠে নামতে পারেননি নেইমার; বরং জিম ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মাঝেই সীমাবদ্ধ ছিলেন তিনি। তাঁর ইনজুরির বর্তমান অবস্থা মূল্যায়নের জন্য নতুন করে মেডিকেল পরীক্ষা করা হলেও ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) এখনও এর আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করেনি। এবারের বিশ্বকাপে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের হতাশাজনক ড্র দিয়ে অভিযান শুরু করেছে ব্রাজিল। সেই ম্যাচে বদলি খেলোয়াড়দের তালিকায় নাম থাকলেও দলের অফিশিয়াল ম্যাচ কিট পরেননি নেইমার, যা মূলত তাঁর ইনজুরির গভীরতাই স্পষ্ট করে দিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আগামী ২০ জুন হাইতি এবং ২৪ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের বাকি দুই ম্যাচে এই তারকাকে সম্পূর্ণ বিশ্রামে রাখা হতে পারে।
নেইমারের দলে থাকা এবং তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি জানান, নেইমার দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছে। তাকে স্কোয়াডে রাখার কারণ শুধু তাঁর অনবদ্য টেকনিক্যাল দক্ষতাই নয়, বরং তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং তরুণ খেলোয়াড়দের সামনে সে যে উদাহরণ তৈরি করতে পারে—সেটির জন্যও তাকে দলের প্রয়োজন। বিশ্বকাপের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নেইমারের অনুপস্থিতিতে সেলেসাওদের আক্রমণভাগের গুরুদায়িত্ব এখন সামলাতে হবে রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র এবং বার্সেলোনার রাফিনহাকে। প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারানোর পর, দলের প্রধান তারকাকে ছাড়াই হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিল ঘুরে দাঁড়াতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।


Md.Rasel Khan 




















