বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার কারণে ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে সামগ্রিক পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে ২০২৭ সালে দাম ৭ শতাংশ কমার সম্ভাবনা থাকলেও এল নিনোর প্রভাব ও যুদ্ধের কারণে খাদ্যপণ্যের দাম উঁচুতেই থেকে যেতে পারে।
১. জ্বালানি ও তেলের বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও রাশিয়ার তেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রভাবে ২০২৬ সালে জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ বাড়তে পারে। বাজারে তেলের সরবরাহ ৫.২ শতাংশ কমার আশঙ্কা রয়েছে, যা ২০২০ সালের মন্দা বাদ দিলে গত চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন। ২০২৬ সালে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২. খাদ্যপণ্য ও সারের দামে রেকর্ড বৃদ্ধির ভয়
কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে সংঘাতের কারণে শস্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় ২০২৬ সালে খাদ্যপণ্যের দাম ১০ শতাংশের বেশি এবং ২০২৭ সালে আরও ৭ শতাংশ বাড়ার আভাস রয়েছে (দুই বছরে মোট ১৮% বৃদ্ধি)। রেকর্ড এল নিনো ও সংঘাত আরও বাড়লে খাদ্যপণ্যের দাম পূর্বাভাসের চেয়ে আরও ১২% বাড়তে পারে, যা ২০১০-এর দশকের মতো বিশ্বজুড়ে নতুন খাদ্যসংকট ও দারিদ্র্য বাড়াতে পারে। এছাড়া সারের দাম ২০২৬ সালে ১৪ শতাংশ বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
৩. ধাতু ও নিরাপদ সম্পদের রেকর্ড চাহিদা
নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও ডেটা সেন্টারের বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে ২০২৬ সালে ধাতুর দাম ২৫ শতাংশ বেড়ে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে (বিশেষ করে অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও টিন)। পাশাপাশি বৈশ্বিক অনিশ্চয়তায় স্বর্ণের মতো মূল্যবান ধাতুর চাহিদা বাড়ায় এর দাম ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
৪. বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সহায়তা কর্মসূচি
বিশ্বব্যাংকের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে জানান, বহুবিধ আঘাতের কারণে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা ও প্রবৃদ্ধি মন্দার ঝুঁকি বাড়ছে। এ সংকট মোকাবিলায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আক্রান্ত ২৫টি দেশকে ইতিমধ্যে ৮৭০ কোটি ডলারের সহায়তা দেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলাতে বিশ্বব্যাংক নিম্ন আয়ের ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।






















