বরগুনার আমতলীতে গাজীপুর বন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শাহীন মাহমুদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট ২৬ দফা অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষক-কর্মচারী ও স্থানীয়রা। পটুয়াখালী দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মূল অভিযোগসমূহ:
* অর্থ আত্মসাৎ ও অনুদান লোপাট: সরকারি অনুদানের ৫ লাখ টাকার অর্ধেক আত্মসাৎ, সাবেক সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ৯০ হাজার টাকা উত্তোলন, ব্যাংক হিসাবের নীতিমালা লঙ্ঘন এবং গাছের জন্য বরাদ্দকৃত ৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ।
* অতিরিক্ত ফি আদায়: অষ্টম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন ও বৃত্তি পরীক্ষার ফরম পূরণে বোর্ড নির্ধারিত ফি-র চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা আদায় এবং প্রবেশপত্র, মার্কশিট ও সনদপত্রের জন্য অতিরিক্ত ফি নেওয়ার অভিযোগ। ভর্তি ফি ৫০০ টাকার স্থলে ১,৪00 টাকা আদায় এবং অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ নিয়ে পরীক্ষায় সুযোগ দেওয়ার অভিযোগ।
* অবৈধ কোচিং বাণিজ্য: বিদ্যালয় চলাকালীন কোচিং করানো এবং ভালো শিক্ষার্থীদের বাধ্য করে প্রতি বিষয়ে ১,০০০ টাকা করে ফি আদায়। কোচিংয়ের আয়ে বিদ্যালয়ের অংশ না দিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নিজে মাসিক ৫,০০০ টাকা আত্মসাৎ করেন। এছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগও উঠেছে।
* প্রশাসনিক অনিয়ম ও পকেট কমিটি: শিক্ষক-কর্মচারীদের না জানিয়ে দুদক প্রদত্ত ‘সততা স্টোর’-এর ২৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ, বিদ্যালয়ের আসবাবপত্র নিজ বাসায় ব্যবহার, ভুয়া ভাউচার তৈরি এবং অভিভাবক সমাবেশ ছাড়াই নিজের পছন্দের লোক দিয়ে পকেট কমিটি গঠনের অভিযোগ। রেজুলেশন বইয়ে জোরপূর্বক শিক্ষকদের স্বাক্ষর নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
* অন্যান্য: রেজিস্ট্রেশনে ইচ্ছাকৃত ভুল করে তা সংশোধনের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য: অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. শাহীন মাহমুদ তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতি:) মো. টিপু সুলতান জানান, অভিযোগের কপি পাওয়া গেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মো. হাফিজুর রহমান নির্বাচন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য করেছেন।






















