রাজধানীর দারুসসালাম থানার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের টালিকোম্পানির বাড়ির নিচে দীর্ঘদিন ধরে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে আইসক্রিম উৎপাদনের অভিযোগে একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ম্যাজিস্ট্রেট সাবিকুন নাহারের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে এবং বিএসটিআই আইন, ২০১৮-এর ৩১ ধারায় কারখানাটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানে দেখা যায়, কারখানাটিতে বিভিন্ন নামে আইসক্রিম তৈরি করা হচ্ছিল, যা উৎপাদনে অননুমোদিত রং ও ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হচ্ছিল। পাশাপাশি উৎপাদন ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধিও যথাযথভাবে মানা হচ্ছিল না। বিশেষ করে, আইসক্রিম তৈরিতে ব্যবহৃত চিনির ড্রামে টিকটিকির উপস্থিতি দেখা গেছে, যা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। স্থানীয় বাজার ও বিভিন্ন গ্রাম-মহল্লায় আইসক্রিম বিক্রির জন্য কারখানাটি প্রায় ১২০টি বক্সভ্যান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়া কারখানার ২৪টি ফ্রিজে বিপুল পরিমাণ আইসক্রিম মজুত রাখা হয়েছে এবং কিছু আইসক্রিম দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।
অভিযানের সময় বিএসটিআইয়ের ম্যাজিস্ট্রেট কারখানার মালিক মো. তামিমের কাছে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নথি দেখাতে পারেননি। মালিক প্রাথমিক দাবি করেন যে তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে এবং পরবর্তীতে জানান যে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে যা কিছুদিনের মধ্যে পাওয়া যাবে। কারখানার সার্বিক পরিস্থিতি, স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়েই ভ্রাম্যমাণ আদালত এই অর্থদণ্ড প্রদান করেন। শিশুদের কাছে জনপ্রিয় আইসক্রিমের মতো খাদ্যপণ্য উৎপাদনে এমন অনিয়মের অভিযোগ জনস্বাস্থ্য নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি এবং এমন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।





















