দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আদালতের অনুমতিসাপেক্ষে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল (বহিষ্কৃত) জিয়াউল আহসানের রূপগঞ্জে অবস্থিত জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের আটতলা বাড়ির মালামাল ক্রোকের অংশ হিসেবে তালিকা তৈরির কাজ (ইনভেন্টরি) শুরু করেছে। সোমবার (২০ জুলাই) সকাল থেকে দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর আগে গত বছরের ২৪ এপ্রিল ঢাকার একটি আদালত জিয়াউল আহসানের ১৫ কোটি ৭৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেন। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল ও ঝালকাঠি জেলায় অবস্থিত এসব সম্পত্তির মধ্যে জমি, কৃষিজমি, বাগানবাড়ি এবং ফ্ল্যাটের পাশাপাশি এই আটতলা বাড়িটিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া তার নামে ৯টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা অবরুদ্ধ করার আদেশও দিয়েছেন আদালত।
উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ১৬ আগস্ট ঢাকার নিউমার্কেট থানার একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হন বহুল আলোচিত এই সাবেক কর্মকর্তা। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। গত ৭ জানুয়ারি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের আরেকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে; পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলায়ও তিনি গ্রেপ্তার রয়েছেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক জিয়াউল আহসান ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজ নামে প্রায় ২২ কোটি ২৭ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন এবং পরবর্তীতে সেই অর্থ স্ত্রী নুসরাত জাহানের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করেছেন। দুদক জানিয়েছে, নুসরাতের নামে থাকা আটটি ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
এদিকে, এর আগের দিন রোববার (১৯ জুলাই) ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটেও ইনভেন্টরি শুরু করেছে দুদক, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৮ কোটি টাকা। প্রথম দিনের কার্যক্রমে ওই ফ্ল্যাটগুলো থেকে তিন শতাধিক কোট, ৫৩২টি টাই, শতাধিক কামিজ, ৮টি ওয়াচ বক্স (যার মধ্যে ৪টি রোলেক্স), বিলাসবহুল গাড়ির চাবি, তিনটি মুক্তার সেট, চারটি ঝাড়বাতি এবং দামি বেড ও সোফা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।























