জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের আয়, হিসাব ও সম্পদের বিবরণী প্রকাশ নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান ও জবাবদিহিতামূলক উদ্যোগ নেওয়ার সুপারিশ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। সভাপতি মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকের অনুমোদিত কার্যবিবরণীতে এই সুপারিশের কথা উল্লেখ করা হয়। বৈঠকে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এনবিআর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সম্পদের হিসাব বিবরণী ঘোষণার বিষয়টি উত্থাপন করেন। কমিটির মতে, আয় ও সম্পদের সামঞ্জস্য যাচাইয়ের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন প্রতিরোধ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং কর ব্যবস্থাপনায় জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।
রাজস্ব সংগ্রহের দক্ষতা বাড়াতে এনবিআর ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন’ বা ‘থ্রি-আর’ কৌশল গ্রহণের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৬.৮ শতাংশ, যা ২০২৬ সালে ৮.৮ শতাংশ, মধ্যমেয়াদে ১০ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এই বিশাল লক্ষ্য অর্জনে সরাসরি যোগাযোগ কমিয়ে এনবিআরের অ্যান্ড-টু-অ্যান্ড অটোমেশন ও প্রযুক্তিগত প্রসারের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। অনলাইনে রিটার্ন দাখিল ও কর পরিশোধের ব্যবস্থা জোরদার হলে ব্যক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত এবং দুর্নীতি ও হয়রানির সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে।
কর ফাঁকি রোধ ও নতুন করদাতা শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের পাশাপাশি সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার তৈরির প্রস্তাব করেছে সংসদীয় কমিটি। ব্যাংক, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), ভূমি, বিআরটিএ ও সঞ্চয়পত্রের মতো সরকারি সংস্থাসমূহের ডেটা এপিআইয়ের (API) মাধ্যমে এনবিআরের ডেটাবেইজের সঙ্গে যুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে করদাতার ঘোষিত তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত আয় ও সম্পদের অসামঞ্জস্য দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। তবে সকল পদক্ষেপ বাস্তবায়নে নিয়মিত করদাতাদের যেন হয়রানি না করা হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করা হয়েছে। তথ্য নিরাপত্তা ও আন্তঃসংস্থা সমন্বয় নিশ্চিত করে এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের কর প্রশাসনে ব্যাপক কাঠামোগত পরিবর্তন আসবে।






















