হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রাজধানীর আশপাশের এলাকায় সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের ভয়ংকর তৎপরতার তথ্য দিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিদেশফেরত প্রবাসী যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের মূল লক্ষ্য বানিয়ে এসব অপরাধে ভাড়ায় খাটানো হচ্ছে পেশাদার ডাকাতদের। আর এই অপরাধগুলোর নেপথ্যে থেকে মূল পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণের কাজ করছে প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ। ফলে মাঠপর্যায়ের অপরাধীরা ধরা পড়লেও অধরাই থেকে যাচ্ছে মূল হোতারা।
অপরাধ সংঘটনের কৌশলে দেখা গেছে, বিমানবন্দর থেকে গন্তব্যে ফেরার পথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর (যেমন—ডিবি পুলিশ) ভুয়া পরিচয় দিয়ে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কালো গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। এরপর চোখ, হাত-পা বেঁধে সর্বস্ব লুট করে ভুক্তভোগীকে নির্জন স্থানে ফেলে রেখে দ্রুত ঢাকার বাইরে পালিয়ে যায় চক্রের সদস্যরা। সম্প্রতি দুবাইপ্রবাসী ভাইয়ের পাঠানো ১৭ ভরি সোনা ও মালামালসহ প্রায় ৩৮ লাখ টাকার সম্পদ খোয়ানো চাঁদপুর বাসিন্দা খোরশেদের ক্ষেত্রেও ঠিক একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তাকে শাহবাগ এলাকা থেকে তুলে নিয়ে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুরে ফেলে যাওয়া হয়।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, এসব অপরাধীদের আইনের আওতায় আনলেও একটা বড় চ্যালেঞ্জ দাঁড়িয়েছে তাদের দ্রুত জামিনে মুক্তি। গ্রেপ্তারকৃত অপরাধীরা আইনজীবী চুক্তির মাধ্যমে অল্প সময়ে জামিন পেয়ে আবার একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. ইলিয়াস কবির জানান, অপরাধ করে অপরাধীরা ঢাকার বাইরে চলে যাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তারে বেগ পেতে হয়; তবে পুলিশের ধারাবাহিক তৎপরতায় ডাকাতির ঘটনা অনেকটা কমেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল মাঠপর্যায়ের ভাড়াতে ডাকাতদের গ্রেপ্তার করে এই অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়। এটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে প্রবাসীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি, ভুয়া পরিচয়ধারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং চক্রের নেপথ্যে থাকা অর্থদাতা ও পৃষ্ঠপোষক মূল হোতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।























