যে বয়সে হাতে থাকার কথা বই-খাতা, সে বয়সে ভবঘুরে হয়ে তাদের কাটাতে হচ্ছে শহর কিংবা স্টেশনের ফুটপাতে । ঘুমাতে হচ্ছে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে। বেঁচে থাকার তাগিদে ও ক্ষুধার জ্বালায় তারা স্টেশন এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মেও জড়িয়ে পড়ছে।
অভিযোগ উঠেছে, স্টেশনের কিছু অসাধু কর্মচারীর আশ্রয়- প্রশ্রয়ে এসব ছিন্নমূল শিশু-কিশোর ব্যবহৃত হচ্ছে বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে।
সম্প্রতি ভৈরব বাজার রেলওয়ে জংশন স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতার কাজে ভাসমান ছিন্নমূল শিশুদের ব্যবহার করার অভিযোগ উঠে এসেছে স্টেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী আপন লালের বিরুদ্ধে।
গত সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে স্বল্প টাকার বিনিময়ে এক ভাসমান শিশুকে (১২) ঝাড়ু দিতে দেখা যায়।
বিষয়টি নিয়ে স্টেশন এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্টেশনের ব্যবসায়ী মিঠু মিয়াসহ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, পরিচ্ছন্নতা কর্মী আপন নিজে ‘সরদার’ সেজে ভাসমান ও পথশিশুদের দিয়ে প্রায়ই প্ল্যাটফর্ম ঝাড়ু দেওয়ান। অথচ এসব শিশুই আবার সুযোগ বুঝে প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের মালামাল, টাকা, মানিব্যাগ ও মোবাইল চুরি কিংবা ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এমন শিশুদের দিয়ে স্টেশনের পরিচ্ছন্নতার কাজ করানোর ফলে যাত্রীদের নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, পরিচ্ছন্নতা কর্মী আপন দীর্ঘদিন ধরে টিকিট কালোবাজারির সঙ্গেও জড়িত এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ বা তোষামোদ করে সে নিয়মিত নানা অনিয়ম করে আসছে।
পরিচ্ছন্নতার কাজ করার সময় অভিযুক্ত শিশুটির সঙ্গে কথা বললে সে জানায়, প্ল্যাটফর্ম ঝাড়ু দিলে আপন ভাই আমাকে টাকা দেবে বলেছে, তাই কাজটা করে দিচ্ছি।
এ বিষয়ে জানতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী আপনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, আমার মা অসুস্থ থাকায় আমি সময়মতো কাজে আসতে পারিনি।
অন্যদিকে, বিষয়টির সত্যতা জানতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবু ইউছুফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আপন শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় সে নিজে উপস্থিত থেকে অন্য লোক দিয়ে কাজ করিয়ে থাকে। তবে গতকাল সে উপস্থিত ছিল কি না, তা আমার জানা নেই।























