ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে সেদেশের প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াকে অত্যন্ত অপ্রত্যাশিত ও অস্বস্তিকর বলে অভিহিত করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আজ সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখতে ভারত সরকারের উচিত তাকে এসব বক্তব্য থেকে বিরত রাখা। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের রায় অনুযায়ী সাজা কার্যকর করতে সরকারের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলার জন্য সাংবাদিকদের আহ্বান জানান।
ব্রিফিংয়ে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো স্বাভাবিক রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি মাফিয়া গ্যাং। তাদের মধ্যে নূন্যতম অনুশোচনা নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এছাড়া সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে ভাইবার নম্বর বাড়ানো প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, এটি কোনো বৈষম্যের জন্য নয়, বরং দক্ষ জনবল নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বোয়িং বিমান কেনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এর অর্থ এককালীন নয় বরং দীর্ঘমেয়াদে পরিশোধ করতে হবে এবং ভবিষ্যতে ‘এয়ারবাস’ ক্রয়ের বিষয়ও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
দেশীয় জ্বালানি সংকট ও আবহাওয়া পরিস্থিতির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় দূরদর্শী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ফলে বর্তমান সরকারকে চীনের সাথে চুক্তিসহ জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হচ্ছে। পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী সম্ভাব্য ‘এল নিনো’ আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে খাদ্য সংকট মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমানে দেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ খাদ্যের মজুদ রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আবদুল ওয়াদুদ এবং উপ-প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।






















