০৭:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডিবির হাতে ভাষানটেক যুবলীগ নেতা অনিক

রাজধানীর ভাষানটেক থানা যুবলীগের সহসভাপতি শাহ আলম অনিককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিবি সূত্র জানায়, মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত শাহাদাতের সঙ্গে শাহ আলম অনিকের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। অনিক শাহাদাত ও ইব্রাহিমের হয়ে এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে আন্ডারগ্রাউন্ড কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার যে অভিযোগ রয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে তার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান (অতিরিক্ত কমিশনার) শফিকুর রহমান অনিককে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু সময় আগে তাকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছি। তার বিরুদ্ধে অনেক ধরনের অভিযোগ রয়েছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।’

শাহ আলম অনিকের বাবার নাম আবু সাঈদ। তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদীতে। তিনি রাজধানীর মিরপুরের পর্বত সেনপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন।

ডিবি সূত্রের দাবি, শনিবার রাতে ইসিবি চত্বরের কাছে নিউ গিনি কনডোমিনিয়াম সিটিতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অনিক সরাসরি জড়িত ছিলেন। তবে এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিল ও মিরপুরের স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ক্যাডার হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন অনিক। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিরপুর, ভাষানটেক, কাফরুল, পল্লবী ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ একাধিক অভিযোগে মামলা রয়েছে বলেও সূত্র জানিয়েছে।

এ ছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে অনিক সামনের সারিতে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলেও সূত্রের দাবি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিষিদ্ধ দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও সংগঠিত করার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।

সূত্রের ভাষ্য, মিরপুর, পল্লবী, ভাষানটেক ও কাফরুল এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাতেও অনিক সরাসরি জড়িত ছিলেন। বিদেশ থেকে আসা বিভিন্ন নির্দেশনা দেশে বাস্তবায়নেও তিনি ভূমিকা রাখছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ছোট ভাই মোতাহার হোসেন খান সুফল। সূত্রের দাবি, সুফল ও অনিক একসঙ্গে ঢাকায় অস্থিরতা তৈরির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

27 September 2026

ডিবির হাতে ভাষানটেক যুবলীগ নেতা অনিক

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে আনা স্ক্র্যাপসহ আটক ৭

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

ডিবির হাতে ভাষানটেক যুবলীগ নেতা অনিক

আপডেট সময় : ০৪:০৮:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর ভাষানটেক থানা যুবলীগের সহসভাপতি শাহ আলম অনিককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিবি সূত্র জানায়, মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত শাহাদাতের সঙ্গে শাহ আলম অনিকের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। অনিক শাহাদাত ও ইব্রাহিমের হয়ে এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন বলেও তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে আন্ডারগ্রাউন্ড কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার যে অভিযোগ রয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে তার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ডিবি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান (অতিরিক্ত কমিশনার) শফিকুর রহমান অনিককে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কিছু সময় আগে তাকে আটক করে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছি। তার বিরুদ্ধে অনেক ধরনের অভিযোগ রয়েছে। আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।’

শাহ আলম অনিকের বাবার নাম আবু সাঈদ। তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদীতে। তিনি রাজধানীর মিরপুরের পর্বত সেনপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন।

ডিবি সূত্রের দাবি, শনিবার রাতে ইসিবি চত্বরের কাছে নিউ গিনি কনডোমিনিয়াম সিটিতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অনিক সরাসরি জড়িত ছিলেন। তবে এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিল ও মিরপুরের স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লার ক্যাডার হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন অনিক। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মিরপুর, ভাষানটেক, কাফরুল, পল্লবী ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ একাধিক অভিযোগে মামলা রয়েছে বলেও সূত্র জানিয়েছে।

এ ছাড়া ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে অনিক সামনের সারিতে ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলেও সূত্রের দাবি। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিষিদ্ধ দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও সংগঠিত করার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।

সূত্রের ভাষ্য, মিরপুর, পল্লবী, ভাষানটেক ও কাফরুল এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাতেও অনিক সরাসরি জড়িত ছিলেন। বিদেশ থেকে আসা বিভিন্ন নির্দেশনা দেশে বাস্তবায়নেও তিনি ভূমিকা রাখছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ছোট ভাই মোতাহার হোসেন খান সুফল। সূত্রের দাবি, সুফল ও অনিক একসঙ্গে ঢাকায় অস্থিরতা তৈরির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।

27 September 2026

ডিবির হাতে ভাষানটেক যুবলীগ নেতা অনিক