জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চলতি অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ‘থ্রি-আর’ (রিকভারি, রেস্টোরেশন ও রিকনস্ট্রাকশন) শীর্ষক ত্রিমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে। এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো কর প্রশাসনের উন্নয়ন, প্রযুক্তি নির্ভরতা বৃদ্ধি, কর পরিপালন সুনিশ্চিত করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে রাজস্ব আহরণে গতি আনা। কৌশলগুলোর মধ্যে ‘রিকভারি’র মাধ্যমে রাজস্ব আদায়ে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য রাখা হয়েছে, ‘রেস্টোরেশন’ নীতিতে করের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের উদ্যোগ রয়েছে এবং ‘রিকনস্ট্রাকশন’ কৌশলের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও স্বেচ্ছায় কর পরিপালন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এনবিআরের উপস্থাপন করা প্রতিবেদনে এসব পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়।
নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে আয়কর খাত থেকে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) থেকে ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা এবং কাস্টমস অনুবিভাগ থেকে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা সংগ্রাহের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আয়কর খাতের কৌশল ও সংগ্রাহের উৎস
আয়কর খাতে রাজস্ব বাড়াতে ফাঁকি দেওয়া অর্থ উদ্ধার, উৎসে করের পরিধি বৃদ্ধি, রিটার্ন জমায় কড়াকড়ি এবং মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত ১০ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সেল ও কর সার্কেলের মাধ্যমে ফাঁকি যাওয়া অর্থ উদ্ধার করে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে। এ ছাড়া প্রগতিশীল করহার পুনঃনির্ধারণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত করধার্য, কর রেয়াতের হ্রাসের সিদ্ধান্ত, টার্নওভার কর বাস্তবায়ন এবং ব্যবসামুখী লেনদেনে উৎসে কর সংগ্রহের মাধ্যমে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জমি, ফ্ল্যাট ও মূলধনি সম্পত্তি বিক্রির মুনাফার ওপর নিয়মিত কর প্রয়োগ এবং রিটার্নের সাথে পরীক্ষিত হিসাব বিবরণী জমা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনাও এতে অন্তর্ভুক্ত।
ভ্যাট ও কাস্টমস খাতের পরিকল্পনা
ভ্যাট অনুবিভাগ নিয়মিত প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি উন্নয়ন বাজেটের (এডিপি) বাস্তবায়ন বৃদ্ধি, তামাক খাত থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব সংগ্রহ এবং অবৈধ বিড়ি-সিগারেটবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে বাড়তি রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা করেছে। এ ছাড়া বকেয়া আদায়, নতুন ভ্যাট নিবন্ধন এবং বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে, কাস্টমস অনুবিভাগ তাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নিয়মিত প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বাজেটের নীতিগত সংস্কার, পণ্য খালাস-পরবর্তী নিরীক্ষা (পোস্ট ক্লিয়ারেন্স অডিট), সময়মতো নিলাম প্রক্রিয়া সম্পন্নকরণ, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে শুল্ক ফাঁকি বন্ধে কড়া নজরদারি চালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
এনবিআর আশা করছে, আয়কর, ভ্যাট এবং কাস্টমস এই তিন বিভাগের সুসমন্বিত ও কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।






















