রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানি করা পণ্যের বন্ডেড ওয়্যারহাউসে অভিযান চালিয়ে চার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৯৮ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের কার্যালয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ইনটিগ্রা অ্যাপারেলস লিমিটেড, ভ্যালমন্ট ফ্যাশন লিমিটেড, বিএসপি ইন্ডাস্ট্রি (বিডি) প্রাইভেট লিমিটেড এবং ট্রাউজার ল্যান্ড বিডি লিমিটেড। ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেটের প্রিভেন্টিভ শাখার তদন্তে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা কাঁচামাল নিয়মানুযায়ী ব্যবহার না করা, পণ্য রপ্তানি না করা, রেজিস্ট্রারের হিসাবে অসঙ্গতি এবং শুল্ক ফাঁকিসহ নানা মারাত্মক অনিয়ম উঠে এসেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্যের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানো ও রপ্তানি উৎসাহিত করতে সরকার মূলত শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির এই বন্ড সুবিধা দিয়ে থাকে, যা ব্যবহার করে ফিনিশড গুডস তৈরি ও বিদেশে রপ্তানি করা বাধ্যতামূলক। তবে কতিপয় উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠান সরকারের এই সুবিধার অপব্যবহার করছে। ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেট সূত্রের তথ্যমতে, বন্ড সুবিধা অপব্যবহারের দায়ে গত মাসে শতাধিক প্রতিষ্ঠানের বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন) সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। অভিযানের সময় অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্ধারিত গুদামে আমদানি করা কাপড় পাওয়া যায়নি; বরং তা বেআইনিভাবে অপসারণের প্রমাণ মিলেছে।
এ বিষয়ে কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, বন্ড সুবিধায় আনা কাঁচামাল নির্ধারিত কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না এবং মজুত ও হিসাবের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি তথ্যের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—তা গুরুত্ব দিয়ে যাচাই করা হচ্ছে। ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেট (প্রিভেন্টিভ)-এর যুগ্ম কমিশনার জানান, রাজস্ব সুরক্ষা ও বন্ড ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং অনিয়ম পেলেই আইনানুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল মনে করেন, বন্ডের অপব্যবহার রোধে কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি বৈধ ও নিয়ম মেনে চলা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা সহজ করতে দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও রাজস্ব সুরক্ষাকে সমন্বয় করে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।






















