ভারতের আখখেতের পরিযায়ী নারী শ্রমিকদের জীবন যেন এক করুণ ট্র্যাজেডি। দক্ষিণ ভারতের কর্ণাটক ও মহারাষ্ট্রের প্রত্যন্ত অঞ্চল (যেমন: বিদ জেলা) থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে এই নারীরা পরিবারের অন্নসংস্থান ও ঋণ পরিশোধের জন্য দৈনিক ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত হাড়ভাঙা খাটুনি খাটেন, যার বিনিময়ে দৈনিক মজুরি মেলে মাত্র ৪০০ রুপি। বিশ্বের মোট আখের ১৬ শতাংশ উৎপাদনকারী ভারতে উৎপাদিত এই আখ সরবরাহ করা হয় কোকা-কোলা ও পেপসিকোর মতো বিশ্বখ্যাত পানীয় ব্র্যান্ডগুলোতে। কিন্তু বিশাল এই সরবরাহ চেইনের পেছনে লুকিয়ে আছে এসব শ্রমিকের চরম করুণ জীবনসংগ্রাম।
টয়লেট ও নিরাপদ পানির সুবিধাহীন নোংরা অস্থায়ী ক্যাম্পে গাদাগাদি করে থাকা এই শ্রমিকদের দৈনিক ৩ টন আখ কাটার কঠিন লক্ষ্য পূরণ করতে হয়। কাজের কঠোর নিয়মের কারণে শারীরিক অসুস্থতা, ঋতুস্রাব কিংবা প্রসবকালীন কোনো ছুটি মেলার সুযোগ নেই। একদিন কাজ বন্ধ রাখলেই মজুরি কাটা এবং ঠিকাদারের জরিমানা গুনতে হয়। মাসিক বা শারীরিক যন্ত্রণার কারণে কাজ যাতে বন্ধ না থাকে, সেজন্য বহু নারী বাধ্য হয়ে জরায়ু কেটে ফেলার (হিস্টেরেকটমি) মতো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও সর্বনাশা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। ২০১৯ সালে মহারাষ্ট্র সরকারের জরিপ অনুযায়ী, বিদ জেলাতেই ১৩,৮৬১ জন নারী জরায়ু অস্ত্রোপচার করাতে বাধ্য হয়েছেন, যাদের ৪৫ শতাংশেরই পরবর্তীতে জটিল শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
সবিতা বা পূর্ণিমার মতো অনেক নারী শ্রমিকের ক্ষেত্রে ঋণের টাকায় এই অস্ত্রোপচার করিয়েও মুক্তি মেলেনি; উল্টো ইনফেকশন ও পেটে তীব্র ব্যথাসহ নানান জটিলতা তৈরি হয়ে তাদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি বিভিন্ন কাগজ-কলমে সুযোগ-সুবিধার আশ্বাস থাকলেও মাঠপর্যায়ে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি এবং স্থানীয় ঠিকাদাররাও তাদের দায় এড়িয়ে চলছে। ফলে সর্বস্ব হারানো এসব নারী শ্রমিকের কাছে বেঁচে থাকাটাই এখন এক চরম ও অন্তহীন সংগ্রাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।






















