০৩:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরপুর ভূমি অফিসে গরিব শাহের ঘুষ বাণিজ্য: দালাল চক্র ও গোপন সেলের নিয়ন্ত্রণে নামজারি সেবা

  • আপডেট সময় : ০১:২৯:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
  • 67

মিরপুর ভূমি অফিসে গরিব শাহের ঘুষ বাণিজ্য

রাকিব হাসান: রাজধানীর মিরপুর ভূমি অফিসে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা গরিব শাহ ওরফে দরবেশ বাবার বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে ঢাকার বাইরে কখনো পোস্টিং না নেওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি মিরপুর এলাকাকে নিজের দুর্নীতির অভয়ারণ্যে পরিণত করেছেন। মাত্র ১৫ দিনের জন্য মোহাম্মদপুর ভূমি অফিসে বদলি হলেও বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পুনরায় মিরপুর ভূমি অফিসে ফিরে এসেই তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মিরপুর ভূমি অফিসে যোগদানের পরই গরিব শাহ সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে ঘুষের নতুন ও চটকদার রেট নির্ধারণ করেছেন। তার অফিসের ভেতরে একটি গোপন সেল রয়েছে, যার পুরো দায়িত্বে রয়েছেন রাজু নামের এক ক্যাশিয়ার। সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের কাজ করার আগে এই ক্যাশিয়ার রাজুর মাধ্যমেই নির্ধারিত ঘুষের লেনদেন সম্পন্ন করতে হয়। সম্প্রতি খলিল গংদের একটি নামজারি সম্পন্ন করার নাম করে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়ভাবে তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় এবং তার অনুসারী সন্ত্রাসী বাহিনী থাকায় তার অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ টু শব্দটি করার সাহস পান না। প্রতিবাদ করলেই ওই সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে হুমকি-ধমকি শুরু হয়।
অনুসন্ধানী আরও জানা যায়, নামজারির জন্য এই সিন্ডিকেট ঘুষের নির্দৃষ্ট রেট নির্ধারণ করে দিয়েছে। বিভিন্ন ভুক্তোভোগীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো।
কলোনির নামজারি: ১ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।
পরিত্যক্ত ও খাস জমি: ২ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকা।
জাতীয় গৃহায়ন জমির নামজারি: ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা।
ফুল ভিপি (VP) নামজারি: ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা।
PVP নামজারি: ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা।
পি কে (PK) নামজারি: ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা।
ওয়ারিশ নামজারি: ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা।
পাট-P2A নামজারি: ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা।
মূল জোত নামজারি: ১৫ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা।
সাধারণ নামজারি: ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা।
জমির ধরনভেদে নির্ধারিত এই ঘুষের হার সেবাগ্রহীতাদের চরম আর্থিক সংকটে ফেলছে এবং সাধারণ মানুষকে ভূমি সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করছে। সরকারের দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থানের পরও একজন কর্মকর্তার এমন প্রকাশ্য ও বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য মিরপুর ভূমি অফিসের প্রশাসনিক শৃঙ্খলাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুনির্দিষ্ট এসব অভিযোগের বিষয়ে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গরিব শাহের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

31 October 2026

মিরপুর ভূমি অফিসে গরিব শাহের ঘুষ বাণিজ্য: দালাল চক্র ও গোপন সেলের নিয়ন্ত্রণে নামজারি সেবা

Spread the love
জনপ্রিয়

রাজধানীতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান,২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫৩৮,মামলা ২৯

মিরপুর ভূমি অফিসে গরিব শাহের ঘুষ বাণিজ্য: দালাল চক্র ও গোপন সেলের নিয়ন্ত্রণে নামজারি সেবা

আপডেট সময় : ০১:২৯:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

রাকিব হাসান: রাজধানীর মিরপুর ভূমি অফিসে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা গরিব শাহ ওরফে দরবেশ বাবার বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে ঢাকার বাইরে কখনো পোস্টিং না নেওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি মিরপুর এলাকাকে নিজের দুর্নীতির অভয়ারণ্যে পরিণত করেছেন। মাত্র ১৫ দিনের জন্য মোহাম্মদপুর ভূমি অফিসে বদলি হলেও বিপুল অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে পুনরায় মিরপুর ভূমি অফিসে ফিরে এসেই তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মিরপুর ভূমি অফিসে যোগদানের পরই গরিব শাহ সেবাগ্রহীতাদের জিম্মি করে ঘুষের নতুন ও চটকদার রেট নির্ধারণ করেছেন। তার অফিসের ভেতরে একটি গোপন সেল রয়েছে, যার পুরো দায়িত্বে রয়েছেন রাজু নামের এক ক্যাশিয়ার। সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের কাজ করার আগে এই ক্যাশিয়ার রাজুর মাধ্যমেই নির্ধারিত ঘুষের লেনদেন সম্পন্ন করতে হয়। সম্প্রতি খলিল গংদের একটি নামজারি সম্পন্ন করার নাম করে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয়ভাবে তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় এবং তার অনুসারী সন্ত্রাসী বাহিনী থাকায় তার অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ টু শব্দটি করার সাহস পান না। প্রতিবাদ করলেই ওই সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে হুমকি-ধমকি শুরু হয়।
অনুসন্ধানী আরও জানা যায়, নামজারির জন্য এই সিন্ডিকেট ঘুষের নির্দৃষ্ট রেট নির্ধারণ করে দিয়েছে। বিভিন্ন ভুক্তোভোগীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো।
কলোনির নামজারি: ১ লক্ষ ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।
পরিত্যক্ত ও খাস জমি: ২ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকা।
জাতীয় গৃহায়ন জমির নামজারি: ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা।
ফুল ভিপি (VP) নামজারি: ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা।
PVP নামজারি: ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা।
পি কে (PK) নামজারি: ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা।
ওয়ারিশ নামজারি: ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা।
পাট-P2A নামজারি: ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা।
মূল জোত নামজারি: ১৫ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা।
সাধারণ নামজারি: ১০ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা।
জমির ধরনভেদে নির্ধারিত এই ঘুষের হার সেবাগ্রহীতাদের চরম আর্থিক সংকটে ফেলছে এবং সাধারণ মানুষকে ভূমি সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করছে। সরকারের দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থানের পরও একজন কর্মকর্তার এমন প্রকাশ্য ও বেপরোয়া ঘুষ বাণিজ্য মিরপুর ভূমি অফিসের প্রশাসনিক শৃঙ্খলাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুনির্দিষ্ট এসব অভিযোগের বিষয়ে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা গরিব শাহের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

31 October 2026

মিরপুর ভূমি অফিসে গরিব শাহের ঘুষ বাণিজ্য: দালাল চক্র ও গোপন সেলের নিয়ন্ত্রণে নামজারি সেবা

Spread the love