ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশটির ২৬তম জাতীয় নির্বাচন, যা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর প্রথম। এবারের নির্বাচনে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট, ইয়ার লাপিদসহ বিরোধী শিবিরের নেতারা। সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো পার্লামেন্টের (নেসেট) ১২০টি আসনের মধ্যে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পেরিয়ে প্রায় ৬২টি আসন পেতে পারে। সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন মধ্যপন্থী ‘ইয়াশার পার্টি’ ভোটারদের কাছে শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে, যেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদ ‘টুগেদার’ নামে জোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে বিরোধী শিবিরের নিজস্ব আদর্শগত মতপার্থক্যের কারণে নির্বাচনের পর সরকার গঠনে তাঁদের ঐক্য ধরে রাখা একটি বড় পরীক্ষা হবে।
এই নির্বাচনে অন্যতম প্রধান প্রভাবক হয়ে উঠেছে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা ব্যর্থতা, গাজা ও লেবাননের দীর্ঘ সংঘাত এবং ইরানের সাথে যুদ্ধাবস্থা। পাশাপাশি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি ও ঘুষের মামলা এবং দেশের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আরব ভোটারদের সিদ্ধান্তও নির্বাচনের ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখবে। ইসরায়েলি নির্বাচনী নিয়ম অনুযায়ী, ভোটাররা সরাসরি প্রার্থী নয় বরং দলকে ভোট দেন এবং কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় না বলে শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট যাকে অন্তত ৬১ জন সংসদ সদস্যের সমর্থন আদায়ে সক্ষম মনে করেন, তাকেই সরকার গঠনের আহ্বান জানান। ফলে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলই যে সরকার গড়বে তা নিশ্চিত নয়; রাজনৈতিক জোটবদ্ধতার ওপরই নির্ভর করছে ইসরায়েলের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।






















