২২ মাসে প্রায় ১৪৩২২টি জিডি তদন্ত করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৩১৬৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের নিকট পৌঁছে দিয়েছে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ১২-এপিবিএন এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনামুল কবির।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ১২-এপিবিএন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনামুল কবির বলেন, ১২ এপিবিএন বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। আমরা বিভিন্ন সোর্স থেকে হারানো মোবাইল ফোনের জিডি সংগ্রহ করে থাকি। আমরা ০১৩২০১৯৪০১৮ এনং ০১৩২০১৯৪০০৩ এই দুটি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সকল থানায় জিডিকৃত হারানো মোবাইল ফোন সংক্রান্ত জিডি সংগ্রহ করে থাকে। পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও পরিচিত জনসহ দেশের বিভিন্ন থানা থেকে হারানো মোবাইল ফোনের জিডি সংগ্রহ পূর্বক তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের নিকট পৌঁছে দিচ্ছি।
তিনি বলেন, ১২ এপিবিএন বিগত ২২ মাসে প্রায় ১৪৩২২টি জিডি তদন্ত করে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৩১৬৫টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের নিকট পৌঁছে দিয়েছে। ১২ এপিবিএন বিগত ২১ মাস যাবৎ এপিবিএন এর সকল ব্যাটালিয়নের মধ্যে হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। গত আগস্ট মাসে ১২ এপিবিএন ১৩২টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে।
তিনি জানান, ১২ এপিবিএন এর হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর 01320-194018 অথবা 01320-194003 অথবা ফেইসবুক পেইজের লিংকে (https://www.facebook.com/12apbn?mibextid=ZbWKwL) অনলাইন জিডির কপিটি পাঠিয়ে দিলে ১২ এপিবিএন এর সাইবার টিম মোবাইল ফোনটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তিনি আরও বলেন, ১২ ব্যাটালিয়ন চুরি যাওয়া, হারিয়ে যাওয়া মোবাইল, বিকাশ-নগদ-রকেটের মাধ্যমে প্রতারিত টাকা আমরা উদ্ধার করে দেই। ভারতের ময়ূখ দত্ত, তার বাবাকে নিয়ে এসেছেন। কলকাতায় বাসে ওঠার সময় তিনি তার ফোনটি হারিয়েছিলেন। যেহেতু ওটা স্মার্টফোন, তিনি আইক্লাউডের সাহায্যে দেখেছেন যে বাংলাদেশে এটি অবস্থান করছে। গত মাসে আমাদের প্রেস ব্রিফিংয়ের নিউজ ছিল ফেসবুকে এবং ইউটিউবে। সেটি দেখে উনি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে আমরা মোবাইলটি উদ্ধার করি। আমরা মানুষের উপকার করার সুযোগ থাকলে, পৃথিবীর যেই হোক না কেন, যেকোনো প্রান্তের মানুষ হোক না কেন, আমরা সেটা করব। এটাই আমাদের নীতিমালা, এটাই দৃষ্টিকোণ।
মোবাইল ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ভারতীয় নাগরিক ময়ূখ দত্ত জানান, আইফোন ভারত থেকে চুরি হওয়ার পর ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে দেখা যায়, ২-৩ দিন পর সেটির লোকেশন পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে ‘বসিরহাট’-এ অবস্থান করছে। চুরির ৬ দিন পর (১২ই জুন) ফোনটির লোকেশন বাংলাদেশের বেনাপোল সীমান্তের রহমান চেম্বার মার্কেটে পাওয়া যায়। ভারতে চুরির পর ভারতের ডাটাবেজে ফোনটির আইএমইআই ব্লক করে দিলে সেখানে আর কোনো সিম চলে না। ফলে সিন্ডিকেটগুলো এই ফোনগুলো অন্য দেশে পাচার করে দেয়। আমি বাংলাদেশে যোগাযোগ করলে এখানকার এপিবিএন আমার মোবাইলটি উদ্ধার করে। মোবাইলটি ফিরে পেয়ে আমি খুবই আনন্দিত।























