ইতালির ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে সম্প্রতি অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, উৎসব প্রাঙ্গণে তাকে রাজনৈতিক স্লোগান দিতে চাপ দেওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে টানাহেঁচড়া, ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং পানি ও ডিম ছুড়ে হয়রানি করা হয়। এই তিক্ত অভিজ্ঞতা, নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরে আসেন তিনি।
দেশে ফেরার পরদিনই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বাঁধনের বাসায় গিয়ে তার ও তার পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন। কঠিন সময়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সরাসরি পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্ট দিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান এই অভিনেত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রীয় এই সফর তাকে ব্যক্তিগতভাবে আশ্বস্ত করার পাশাপাশি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি তার আস্থাকে আরও দৃঢ় করেছে।
বাঁধন তার বার্তায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল শক্তিই হলো তার জনগণ। রাষ্ট্র যখন জনগণের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তখন নাগরিকদের বিশ্বাস আরও শক্তিশালী হয়। একই সাথে, ইতালিতে ঘটে যাওয়া ঘটনার সময় ও পরবর্তী পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়ানোর জন্য বাংলাদেশ সরকার, সরকারপ্রধান, বাংলাদেশ দূতাবাস, ইতালীয় সরকার ও পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
এই পুরো অভিজ্ঞতা তাকে অন্যায়, ভয় ও বিভাজনের বিরুদ্ধে ঐক্য, সাহস এবং একে অপরের প্রতি দায়িত্ববোধের বিষয়টি নতুন করে উপলব্ধি করিয়েছে বলে জানান বাঁধন। তিনি দৃঢ়তার সাথে মন্তব্য করেন, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত মতের পার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু একজন নাগরিকের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস হতে পারে না। পরিশেষে, একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশের সকল নাগরিককে নিজ নিজ জায়গা থেকে সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান এই অভিনেত্রী।






















