০২:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তাল পদ্মায় নৌকাডুবি, মায়ের বুক ও নানার হাতে প্রাণ ফিরে পেল ২০ দিনের তানিশার

উত্তাল পদ্মায় নৌকাডুবি, মায়ের বুক ও নানার হাতে প্রাণ ফিরে পেল ২০ দিনের তানিশার

ভরা পদ্মার উত্তাল জলরাশি। বিকেলের ঝড়ো হাওয়ায় মুহূর্তেই ভয়ংকর হয়ে ওঠে নদী। বাড়ি ফেরার পথে ছোট্ট একটি নৌকা হঠাৎ ডুবে যায়। মুহূর্তের মধ্যে নদীর স্রোতে ভেসে যান নৌকায় থাকা ১২ জন। তাঁদের সঙ্গে ভেসে যায় মাত্র ২০ দিনের শিশু তানিশাও।

চারদিকে তখন শুধু অথৈ পানি আর প্রবল স্রোত। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে কেউ নৌকার কাঠের পাটাতন, কেউ বস্তা, কেউ বৈঠা কিংবা ভাসমান কাঠ আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করছিলেন। আর নিজের জীবন তুচ্ছ করে শিশুকন্যাকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন মা তানিয়া খাতুন।

একপর্যায়ে স্রোতের টানে মায়ের হাত থেকে ছুটে যায় তানিশা। মুহূর্তের জন্য পানিতে তলিয়ে যায় শিশুটি। কিন্তু হাল ছাড়েননি মা। জীবন বাজি রেখে খুঁজে আবারও মেয়েকে উদ্ধার করেন তিনি। এরপর দুই পা দিয়ে শিশুটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে পানির ওপরে রাখেন।

নাতনিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তানিশার নানা ইব্রাহিমও। সাঁতার জানা ইব্রাহিম এক হাত উঁচু করে নাতনিকে ধরে স্রোতের সঙ্গে লড়াই করতে থাকেন। এভাবেই মা, নানা ও অন্য যাত্রীরা প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিট ধরে উত্তাল পদ্মার পানিতে ভেসে থাকেন।

শেষ পর্যন্ত স্রোত তাঁদের ভারতীয় জলসীমার দিকে নিয়ে যায়। সেখানে ভাসমান অবস্থায় বাংলাদেশিদের দেখতে পেয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে এগিয়ে আসেন। উদ্ধার করা হয় তানিশাসহ ১০ বাংলাদেশিকে।

উদ্ধারের সময় মায়ের কোলে থাকা ২০ দিনের তানিশা পানি খেয়ে প্রায় নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। পরে বিএসএফ সদস্যরা দ্রুত তাকে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশুটিকে সুস্থ বলে জানান।

ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাখের আলী থেকে জোহুরপুর বেলপাড়ায় যাওয়ার সময় পদ্মা নদীতে। নৌকাটিতে থাকা ১২ জনের মধ্যে ছিল শিশু তানিশা। সে জোহুরপুর বেলপাড়া এলাকার মো. সোহেল ও তানিয়া খাতুন দম্পতির সন্তান।

বাখের আলী বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার শরিফুল ইসলাম জানান, নৌকাডুবির পর তানিশাকে বুকের সঙ্গে শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন তার মা। একই সময়ে নৌকার ধানের গুঁড়া, বৈঠা ও কাঠের পাটাতনসহ যেসব জিনিস ভেসে ছিল, সেগুলো আঁকড়ে ধরে অন্যরাও প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন।

একপর্যায়ে প্রবল স্রোতে শিশুটি মায়ের হাত থেকে ছুটে পানিতে তলিয়ে যায়। পরে তানিয়া খাতুন তাকে খুঁজে বের করে আবারও শক্ত করে ধরে রাখেন।

ফরিদপুর বিওপির কোম্পানি কমান্ডার শহিদুল ইসলাম বলেন, তানিশার নানা ইব্রাহিম সাঁতার জানতেন। তিনি এক হাত উঁচু করে শিশুটিকে ধরে সাঁতরে চলেন। আর অন্য নারীরা নৌকার পাটাতন, বৈঠা ও বস্তা ধরে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন। এভাবে তাঁরা এক ঘণ্টারও বেশি সময় পানিতে ছিলেন।

নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম রবু জানান, প্রচণ্ড স্রোত ও ঝড়ের মধ্যে তানিশা মায়ের হাত থেকে ছুটে গেলে তানিয়া তাকে আবার খুঁজে পান। পরে দুই পা দিয়ে শিশুটিকে আঁকড়ে ধরে পানির ওপরে রাখেন। শিশুটির অবস্থা দেখে নানা ইব্রাহিমও নাতনিকে এক হাত উঁচু করে ধরে সাঁতরে চলেন।

15 September 2026

উত্তাল পদ্মায় নৌকাডুবি, মায়ের বুক ও নানার হাতে প্রাণ ফিরে পেল ২০ দিনের তানিশার

জনপ্রিয়

মেহেরপুরে ইয়াবা-গাঁজা, গু/লি ও নগদ টাকাসহ পিতা-পুত্র গ্রে/প্তা/র

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

উত্তাল পদ্মায় নৌকাডুবি, মায়ের বুক ও নানার হাতে প্রাণ ফিরে পেল ২০ দিনের তানিশার

আপডেট সময় : ০২:৩৯:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভরা পদ্মার উত্তাল জলরাশি। বিকেলের ঝড়ো হাওয়ায় মুহূর্তেই ভয়ংকর হয়ে ওঠে নদী। বাড়ি ফেরার পথে ছোট্ট একটি নৌকা হঠাৎ ডুবে যায়। মুহূর্তের মধ্যে নদীর স্রোতে ভেসে যান নৌকায় থাকা ১২ জন। তাঁদের সঙ্গে ভেসে যায় মাত্র ২০ দিনের শিশু তানিশাও।

চারদিকে তখন শুধু অথৈ পানি আর প্রবল স্রোত। মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে কেউ নৌকার কাঠের পাটাতন, কেউ বস্তা, কেউ বৈঠা কিংবা ভাসমান কাঠ আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করছিলেন। আর নিজের জীবন তুচ্ছ করে শিশুকন্যাকে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন মা তানিয়া খাতুন।

একপর্যায়ে স্রোতের টানে মায়ের হাত থেকে ছুটে যায় তানিশা। মুহূর্তের জন্য পানিতে তলিয়ে যায় শিশুটি। কিন্তু হাল ছাড়েননি মা। জীবন বাজি রেখে খুঁজে আবারও মেয়েকে উদ্ধার করেন তিনি। এরপর দুই পা দিয়ে শিশুটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে পানির ওপরে রাখেন।

নাতনিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তানিশার নানা ইব্রাহিমও। সাঁতার জানা ইব্রাহিম এক হাত উঁচু করে নাতনিকে ধরে স্রোতের সঙ্গে লড়াই করতে থাকেন। এভাবেই মা, নানা ও অন্য যাত্রীরা প্রায় এক ঘণ্টা ২০ মিনিট ধরে উত্তাল পদ্মার পানিতে ভেসে থাকেন।

শেষ পর্যন্ত স্রোত তাঁদের ভারতীয় জলসীমার দিকে নিয়ে যায়। সেখানে ভাসমান অবস্থায় বাংলাদেশিদের দেখতে পেয়ে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সদস্যরা স্পিডবোট নিয়ে এগিয়ে আসেন। উদ্ধার করা হয় তানিশাসহ ১০ বাংলাদেশিকে।

উদ্ধারের সময় মায়ের কোলে থাকা ২০ দিনের তানিশা পানি খেয়ে প্রায় নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। পরে বিএসএফ সদস্যরা দ্রুত তাকে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে শিশুটিকে সুস্থ বলে জানান।

ঘটনাটি ঘটে গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাখের আলী থেকে জোহুরপুর বেলপাড়ায় যাওয়ার সময় পদ্মা নদীতে। নৌকাটিতে থাকা ১২ জনের মধ্যে ছিল শিশু তানিশা। সে জোহুরপুর বেলপাড়া এলাকার মো. সোহেল ও তানিয়া খাতুন দম্পতির সন্তান।

বাখের আলী বিজিবি ক্যাম্পের সুবেদার শরিফুল ইসলাম জানান, নৌকাডুবির পর তানিশাকে বুকের সঙ্গে শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন তার মা। একই সময়ে নৌকার ধানের গুঁড়া, বৈঠা ও কাঠের পাটাতনসহ যেসব জিনিস ভেসে ছিল, সেগুলো আঁকড়ে ধরে অন্যরাও প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন।

একপর্যায়ে প্রবল স্রোতে শিশুটি মায়ের হাত থেকে ছুটে পানিতে তলিয়ে যায়। পরে তানিয়া খাতুন তাকে খুঁজে বের করে আবারও শক্ত করে ধরে রাখেন।

ফরিদপুর বিওপির কোম্পানি কমান্ডার শহিদুল ইসলাম বলেন, তানিশার নানা ইব্রাহিম সাঁতার জানতেন। তিনি এক হাত উঁচু করে শিশুটিকে ধরে সাঁতরে চলেন। আর অন্য নারীরা নৌকার পাটাতন, বৈঠা ও বস্তা ধরে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন। এভাবে তাঁরা এক ঘণ্টারও বেশি সময় পানিতে ছিলেন।

নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম রবু জানান, প্রচণ্ড স্রোত ও ঝড়ের মধ্যে তানিশা মায়ের হাত থেকে ছুটে গেলে তানিয়া তাকে আবার খুঁজে পান। পরে দুই পা দিয়ে শিশুটিকে আঁকড়ে ধরে পানির ওপরে রাখেন। শিশুটির অবস্থা দেখে নানা ইব্রাহিমও নাতনিকে এক হাত উঁচু করে ধরে সাঁতরে চলেন।

15 September 2026

উত্তাল পদ্মায় নৌকাডুবি, মায়ের বুক ও নানার হাতে প্রাণ ফিরে পেল ২০ দিনের তানিশার