জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান জানিয়েছেন, করদাতাদের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক তৈরি, কর ব্যবস্থার সরলীকরণ এবং সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে করের আওতা বাড়ানোই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। আজ রোববার রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘অর্থ বিল ২০২৬-২৭ এর বিশ্লেষণ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক মহামারি, যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় রেখে এবারের বাজেটে সাধারণ মানুষের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দ্রব্যমূল্যের ওপর চাপ কমাতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শুল্ক ও করে স্বস্তি দেওয়া হয়েছে, যা শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়ক হবে।
ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের জন্য ভ্যাট ব্যবস্থা সহজ করার ঘোষণা দিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, ছোট ব্যবসায়ীদের জটিল রিটার্ন বা অডিট ও হিসাবপত্র সংরক্ষণের ঝামেলা পোহাতে হবে না। আয়করের ই-টিআইএন-এর মতো এখন থেকে ভ্যাট নিবন্ধনও তাৎক্ষণিক করা হবে এবং অনলাইনে টার্নওভার কর পরিশোধের সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে এনবিআর নিজস্ব সফটওয়্যার তৈরি করবে, যার মাধ্যমে সহজেই ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করা যাবে। ব্যবসা সহজীকরণের অংশ হিসেবে রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বন্ড সুবিধা সম্প্রসারণ, আন্তঃকমিশনারেট কন্টিনিউয়াস বন্ড এবং অনুগত প্রতিষ্ঠানের জন্য অডিট শিথিল করার মতো বিভিন্ন ডিরেগুলেটরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে ৪৫ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন এবং আগামী অর্থবছর থেকে কোম্পানি ও ভ্যাট রিটার্নও সম্পূর্ণ অনলাইনে আনা হবে। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্রের মুনাফার ওপর কর বৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, বরং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা সহজেই কর ফেরত পাবেন।
সেমিনারে তামাক খাতে কর ফাঁকি রোধে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার ঘোষণা দেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি জানান, সিগারেটসহ অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের স্ট্যাম্পে কিউআর কোড যুক্ত করা হবে, যা দেখে সাধারণ ভোক্তারা মোবাইলের মাধ্যমেই কর পরিশোধের বিষয়টি যাচাই করতে পারবেন। ভোক্তারা কর ফাঁকির তথ্য দিলে তাদের পুরস্কৃত করা হবে এবং দোষী প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনা হবে। তামাক খাতের প্রায় ১৫ শতাংশ পণ্য করের বাইরে থাকায় এই প্রযুক্তির মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং পরবর্তীতে অন্যান্য উৎপাদিত পণ্যেও এই ব্যবস্থা চালু করা হবে। ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম।




















