সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। তিনি সংসদকে জানান, গত ১২ জুন ইউএইর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ এবং ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে পাঠানো এক ইমেইলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানানো হয়েছে। ইউএইর ফেডারেল আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) আবেদন পাঠাতে হবে এবং এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেন, সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার, ১৯৭৩-এর আওতায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবি ঢাকা ইন্টারপোলের কাছে আবেদন করার পর, বিগত ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল ইন্টারপোল তাঁর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। এই গ্রেপ্তারকে বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে আখ্যায়িত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে দেশ বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে এবং এটি প্রমাণ করে যে অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও তদন্ত-সংক্রান্ত নথিপত্র প্রস্তুত করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব প্রস্তুত ও অনুমোদনের কাজ সম্পন্ন করার পরপরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠানো হবে।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে মূল মামলাটি হয়েছিল ১১ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে। ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করার পর, তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। অভিযোগপত্রে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ তাঁর সম্পদ বিবরণীতে ১২ কোটি ২০ লাখ টাকার সম্পদের ঘোষণা দিলেও তদন্তে তাঁর নামে ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। বৈধ আয় বাদ দিলে তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অবৈধ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ fragrant ৫৭৬ টাকা, যা তিনি অবৈধ উৎস গোপন করে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও যৌথ মূলধনি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ ও রূপান্তর করেছিলেন। এই মামলার ধারাবাহিকতায় গত ৮ মার্চ আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন এবং গত ৩ মে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এর বিচার শুরু হয়। উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং এর আগে তিনি র্যাবের মহাপরিচালক ও ডিএমপি কমিশনার হিসেবেও নিয়োজিত ছিলেন।




















