জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা ডিভিশনে কর্মরত নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জিয়াউর রহমানকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জ্ঞাতআয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। ফ্যাসিবাদের পুরোটা সময় বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদের নেতা সেজে ফুলে ফেপে দেশের বিভিন্ন জায়গায় অঢেল সম্পত্তির মালিক বনে যাওয়া এই ফ্যাসিস্ট দোসর ৫ই আগস্টের পর পেয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশলীর পদে পদোন্নতি। যেখানে তাদের বিরুদ্ধে মিরপুরে ছাত্র জনতার মিছিলে গুলি করে মানুষ হত্যার অভিযোগ ও আন্দোলনে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের অর্থ যোগানদাতার অভিযোগ রয়েছে। সেখানে তার পদন্নতি নিয়ে রয়েছে নানান প্রশ্ন।
দুর্নীতি দমন কমিশনে তার বিরুদ্ধে দায়ের করা এক অভিযোগে বলা হয়, মিরপুরের ভূমিদস্যু সাবেক এম পি ইলিয়াস মোল্লার আস্থাভাজন জিয়াউর বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে ছিলেন ব্যাপক ক্ষমতাধর। যে কারণে নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দুর্নীতি আর ঘুষ বাণিজ্যে গড়েছেন অঢেল সম্পদ। মোহাম্মদপুরে শীর্ষ সন্ত্রাসী নেক্সাসের সঙ্গেও ছিলো তার বেশ দহররম মহররম। এমনকি বিগত সরকারের অনেক মন্ত্রী, এমপির নির্বাচনে অর্থ যোগানদাতা ছিলেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জিয়াউর রহমান।
তার বিরুদ্ধে দুদকে দায়ের হওয়া অভিযোগে আরও বলা হয়, রূপতি মৌজায় ৪ শতাংশ জমি ও একটি বাড়ি, জোয়া সাহারায় বহুতল ভবনে দুইটি ফ্ল্যাট, সাভারের তেতুলপাড় এলাকায় ৯ তলা ভবন, মাগুরা মৌজায় সাড়ে পাঁচ শতাংশ জমি ও মাগুরা হাউজিং এস্টেটে ৩ কাঠা প্লট, লালমাটিয়ায় ১৮৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট, জগদল মৌজায় ১৫ শতাংশ জমি, শিউলডাঙ্গা মৌজায় ৪০ শতাংশ জমি, জগদল মৌজায় ৪ শতাংশ জমি, রূপতি মৌজায় ২০ শতাংশ জায়গা, নিজুনিন্দুয়ালী মৌজায় ৬ শতাংশ জমি, এছাড়া রূপতি মৌজায় আরও ১১ শতাংশ জমি ও বাংলো বাড়ি রয়েছে এই নির্বাহী প্রকৌশলীর। যার আনুমানিক মূল্য কয়েক কোটি টাকা।
জিয়ার তথ্য চেয়ে জাগৃকে ২০২৪ সালের নভেম্বরে দুদকের সহকারী পরিচালক এস, এম রাশেদুল হাসান স্বাক্ষরিত একটি তাগিদ পত্র দেয়া হয়। কিন্তু সেই তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে রয়েছে শংসয়।
নাম প্রকাশ না করার সর্তে জিয়াউরের সহকর্মীরা জানান, চাকুরি জীবনের অধিকাংশ সময়ই তিনি ঢাকায় ছিলেন। মিরপুর, মোহাম্মদপুর ডিভিশনে চাকরি করে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এমনকি খালিশপুর হাউজিং এষ্টেটের তিনটি প্লট তার স্ত্রীর নামে বাগিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া,মিরপুর ডিভিশন-২ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন “গৃহসূচনা আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মান প্রকল্পের” ইউরোপ সফরে জিয়াউর রহমানের অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ই/এম ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা লিফট সংক্রান্ত কার্যক্রম দেখেন। কিন্তু উপবিভাগীয় প্রকৌশলী কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে প্রজেক্ট সংশ্লিষ্ট নয়, ঢাকাতেও কর্মরত নয় এমন একজনকে ইউরোপ ভ্রমণে পাঠানো নিয়ে বেশ সমালোচনা শুরু হয়।
এতো সমালোচনার পরও অজানা কারণে নিশ্চুপ সংশ্লিষ্টরা। এতে প্রশ্ন উঠেছে সরকারের দুর্নীতি বিরোধী অবস্থান ও আওয়ামী প্রীতি নিয়ে।




















