০৪:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্রিকেটার নাঈম কাণ্ডে তোলপাড়, আবারও প্রশ্নবিদ্ধ পুলিশ বাহিনী

  • আপডেট সময় : ০৮:১৬:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • 24

জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে পুলিশের মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় ক্ষোভে ফুসছে ক্রিকেট জগৎ। তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্রিকেট প্রেমিরাও। এমনকি বিসিবির পক্ষ থেকেও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটার নাঈম তুলে ধরেন পুরো ঘটনা। তিনি জানান, শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় টোল প্লাজা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। তিনি সহযোগিতা করলেও তারা কোনো কথা না শুনে তাকে ধাক্কা দেন এবং সিএনজি অটোরিকশা আটকে রাখেন। পাশে থাকা ব্যক্তিরা পরিচয় দিলেও পুলিশ সদস্যরা তা আমলে না নিয়ে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করে দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে তাকে গাড়িতে তুলে খুলশী থানায় নেয়া হয়। সেখানে নেয়ার পরও তাকে হেনস্তা করা হয়।
নাঈম বলেন, টোলের ওখানে একজন ট্রাফিক পুলিশ আমাদের থামায়। তারপর একজন আমাদের গাড়ি চেক করেছে। আমি ভেবেছিলাম ব্যাগ চেক করবে। তবে এরপর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। কোনো কারণ না জানিয়েই জোর করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। এসআই শফিক আমাকে ধাক্কা দিয়ে সিএনজির ভেতর ঢুকিয়ে লক করে দেয়। আমি জিজ্ঞেস করছিলাম যে কী হয়েছে। আমি তখন ভয় পেয়ে যাই।
এই ক্রিকেটার আরও বলেন, এসআই শফিক আমাকে বলেন, তুই আসামি। তুই চুপ থাক, একটাও কথা বলবি না। তারপর আমার গলা চেপে ধরে। তখন আমি চিল্লাচিল্লি করেছি ও আব্বুকে কল দিয়েছি। আমার মোবাইলও নিয়ে নেয় তখন। ওখানে থাকা ভাইয়ারা সবাই আমার পরিচয় নিশ্চিত করেছে, তবুও উনি আমার গলা চেপে ধরে রাখে। ওদের একজন পুলিশের ড্রেসে ছিল, আরেকজন পাঞ্জাবি পরা ছিল। তারা থানায় নিয়ে আসে। আমি তখন ওসিকে আমার পরিচয় দেই।
তিনি বলেন, থানায় ওসির সামনেও নাজেহাল করা হয়েছে। ওসি আমাকে বলে, চোখ নামিয়ে কথা বলো। আমি বলেছি যে- আমি জাতীয় দলের খেলোয়াড়। আমি টেস্ট খেলি। ওখানে প্রায় ১০০ জনের মতো মানুষ ছিলেন, সবাই আমার পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তবুও পুলিশ শোনেনি। তাও ওরা আমার গলা চেপে ধরে থানায় নিয়ে আসে। আমাকে লাঠি দিয়ে মেরেছে এসআই শফিক। আমি বলেছি, আমার গায়ে হাত দেয়ার অধিকার আপনার নেই, তবুও মেরেছে। পরে বিভিন্ন পরিচিতজন ও সংশ্লিষ্ট মহল থেকে ফোন আসতে শুরু করলে পুলিশ বিষয়টি বুঝতে পারে, এরপর ছেড়ে দেয়া হয়।
এদিকে, এ ঘটনায় মামলা করেছেন ক্রিকেটার নাঈমের ভাই সাব্বির আলম।এতে খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও পুলিশ সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়। মামলায় মারধর ও অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
খবর ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত অভিযুক্ত এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাসেলকে প্রত্যাহার করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় পুলিশের সোর্স সোহেলকে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী জানান, অভিযুক্তদের শুধু প্রত্যাহার নয়, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। পুলিশের কেউ অন্যায় করলে ছাড় দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।
অন্যদিকে,চট্টগ্রামে জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে মারধর করে থানায় নিয়ে যাওয়া ও হেনস্তার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। এই ঘটনায় নাঈম ও তার পরিবারের পাশে থাকার পাশাপাশি বিসিবির পক্ষ থেকে সব ধরনের আইনি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
তবে এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভুমিকা নিয়ে। ৫ আগষ্ট পূর্ভবর্তি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিনত হওয়া পুলিশ আবারও পুরোন রুপে ফিরে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। সাধারণ মানুষ বলছেন, পুলিশ সংস্কারের নামে সরকারের প্রহসন এই বাহিনীকে আবারও বেপরোয়া করে দিয়েছে। আবারও দলীয় প্রভাব বিস্তার করে স্বেচ্ছাচারিতায় লিপ্ত পুলিশ সদস্যরা। দেশের আইনের রক্ষক যদি ভক্ষকের ভুমিকায় থাকে তবে সে দেশে কেউ নিরাপদ নয় বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ।
তাই সরকারকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পুলিশের বেপরোয়া আচরন বন্ধ ও অপরাধ জগৎ থেকে ফিরিয়ে জনগণের সেবায় নিয়োজিত একটি আদর্শ বাহিনীতে পরিনত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান সাধারণ মানুষের।

15 June 2026

ক্রিকেটার নাঈম কাণ্ডে তোলপাড়, আবারও প্রশ্নবিদ্ধ পুলিশ বাহিনী

জনপ্রিয়

দুবাইয়ে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেপ্তার

ক্রিকেটার নাঈম কাণ্ডে তোলপাড়, আবারও প্রশ্নবিদ্ধ পুলিশ বাহিনী

আপডেট সময় : ০৮:১৬:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে পুলিশের মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় ক্ষোভে ফুসছে ক্রিকেট জগৎ। তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্রিকেট প্রেমিরাও। এমনকি বিসিবির পক্ষ থেকেও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটার নাঈম তুলে ধরেন পুরো ঘটনা। তিনি জানান, শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় টোল প্লাজা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। তিনি সহযোগিতা করলেও তারা কোনো কথা না শুনে তাকে ধাক্কা দেন এবং সিএনজি অটোরিকশা আটকে রাখেন। পাশে থাকা ব্যক্তিরা পরিচয় দিলেও পুলিশ সদস্যরা তা আমলে না নিয়ে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করে দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে তাকে গাড়িতে তুলে খুলশী থানায় নেয়া হয়। সেখানে নেয়ার পরও তাকে হেনস্তা করা হয়।
নাঈম বলেন, টোলের ওখানে একজন ট্রাফিক পুলিশ আমাদের থামায়। তারপর একজন আমাদের গাড়ি চেক করেছে। আমি ভেবেছিলাম ব্যাগ চেক করবে। তবে এরপর পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়। কোনো কারণ না জানিয়েই জোর করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। এসআই শফিক আমাকে ধাক্কা দিয়ে সিএনজির ভেতর ঢুকিয়ে লক করে দেয়। আমি জিজ্ঞেস করছিলাম যে কী হয়েছে। আমি তখন ভয় পেয়ে যাই।
এই ক্রিকেটার আরও বলেন, এসআই শফিক আমাকে বলেন, তুই আসামি। তুই চুপ থাক, একটাও কথা বলবি না। তারপর আমার গলা চেপে ধরে। তখন আমি চিল্লাচিল্লি করেছি ও আব্বুকে কল দিয়েছি। আমার মোবাইলও নিয়ে নেয় তখন। ওখানে থাকা ভাইয়ারা সবাই আমার পরিচয় নিশ্চিত করেছে, তবুও উনি আমার গলা চেপে ধরে রাখে। ওদের একজন পুলিশের ড্রেসে ছিল, আরেকজন পাঞ্জাবি পরা ছিল। তারা থানায় নিয়ে আসে। আমি তখন ওসিকে আমার পরিচয় দেই।
তিনি বলেন, থানায় ওসির সামনেও নাজেহাল করা হয়েছে। ওসি আমাকে বলে, চোখ নামিয়ে কথা বলো। আমি বলেছি যে- আমি জাতীয় দলের খেলোয়াড়। আমি টেস্ট খেলি। ওখানে প্রায় ১০০ জনের মতো মানুষ ছিলেন, সবাই আমার পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তবুও পুলিশ শোনেনি। তাও ওরা আমার গলা চেপে ধরে থানায় নিয়ে আসে। আমাকে লাঠি দিয়ে মেরেছে এসআই শফিক। আমি বলেছি, আমার গায়ে হাত দেয়ার অধিকার আপনার নেই, তবুও মেরেছে। পরে বিভিন্ন পরিচিতজন ও সংশ্লিষ্ট মহল থেকে ফোন আসতে শুরু করলে পুলিশ বিষয়টি বুঝতে পারে, এরপর ছেড়ে দেয়া হয়।
এদিকে, এ ঘটনায় মামলা করেছেন ক্রিকেটার নাঈমের ভাই সাব্বির আলম।এতে খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও পুলিশ সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়। মামলায় মারধর ও অপহরণ চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
খবর ছড়িয়ে পড়লে দ্রুত অভিযুক্ত এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাসেলকে প্রত্যাহার করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় পুলিশের সোর্স সোহেলকে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী জানান, অভিযুক্তদের শুধু প্রত্যাহার নয়, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। পুলিশের কেউ অন্যায় করলে ছাড় দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি।
অন্যদিকে,চট্টগ্রামে জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে মারধর করে থানায় নিয়ে যাওয়া ও হেনস্তার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি তামিম ইকবাল। এই ঘটনায় নাঈম ও তার পরিবারের পাশে থাকার পাশাপাশি বিসিবির পক্ষ থেকে সব ধরনের আইনি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
তবে এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের ভুমিকা নিয়ে। ৫ আগষ্ট পূর্ভবর্তি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের লাঠিয়াল বাহিনীতে পরিনত হওয়া পুলিশ আবারও পুরোন রুপে ফিরে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। সাধারণ মানুষ বলছেন, পুলিশ সংস্কারের নামে সরকারের প্রহসন এই বাহিনীকে আবারও বেপরোয়া করে দিয়েছে। আবারও দলীয় প্রভাব বিস্তার করে স্বেচ্ছাচারিতায় লিপ্ত পুলিশ সদস্যরা। দেশের আইনের রক্ষক যদি ভক্ষকের ভুমিকায় থাকে তবে সে দেশে কেউ নিরাপদ নয় বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ।
তাই সরকারকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পুলিশের বেপরোয়া আচরন বন্ধ ও অপরাধ জগৎ থেকে ফিরিয়ে জনগণের সেবায় নিয়োজিত একটি আদর্শ বাহিনীতে পরিনত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান সাধারণ মানুষের।

15 June 2026

ক্রিকেটার নাঈম কাণ্ডে তোলপাড়, আবারও প্রশ্নবিদ্ধ পুলিশ বাহিনী