০৬:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৈয়দপুরে অস্বাস্থ্যকর মুরগির বর্জ্য বিক্রি: খাদ্যনিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে

  • আপডেট সময় : ০৬:২৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • 117

সৈয়দপুরে অস্বাস্থ্যকর মুরগির বর্জ্য বিক্রি

ওবায়দুল ইসলাম,নীলফামারী: নীলফামারীর সৈয়দপুরে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মুরগির ফেলে দেওয়া বর্জ্য ও নাড়িভুঁড়ি বিক্রি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী মুরগির নাড়িভুঁড়ি নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা বা মাটিতে পুঁতে ফেলার কথা থাকলেও তা প্রায় ১২ টাকা কেজি দরে দূরবর্তী এলাকার ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। এরপর প্রতিদিন ভ্যানে করে ড্রামভর্তি এসব বর্জ্য দিনাজপুরের চিরিরবন্দর ও রানীরবন্দরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

যদিও বর্জ্য পরিবহনকারীরা এসব নাড়িভুঁড়ি পুকুরের মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের দাবি করছেন, তবে স্থানীয়দের অভিযোগ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। অভিযোগ রয়েছে, এসব বর্জ্যের একটি বড় অংশ গরম পানিতে পরিষ্কার করে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে, যা কিনে নিচ্ছেন কিছু অসাধু হোটেল ব্যবসায়ী। ফেলে দেওয়া এসব অনিরাপদ ও অপরিষ্কার বর্জ্য দিয়ে তৈরি মুখরোচক খাবার সাধারণ মানুষের খাবারের তালিকায় ঢুকে পড়ায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট সৈয়দপুর মুরগির হাটে গোপনে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি ড্রামে নাড়িভুঁড়ি ভর্তি করে ভ্যানে তোলার প্রস্তুতি চলছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে পরিবহনকারীরা সাময়িকভাবে সরে গেলেও পরে চিরিরবন্দর ও রানীরবন্দরের আরও লোক এই ব্যবসায় জড়িত বলে দাবি করেন। এ সময় কিছু অসাধু মুরগি ব্যবসায়ী বিক্রি নিষেধ হওয়ার পরেও কেন বর্জ্য বিক্রি করছেন—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান।

এমতাবস্থায় মুরগির নাড়িভুঁড়ি সংগ্রহ, পরিবহন ও বিক্রির পুরো প্রক্রিয়াটি নিরাপদ খাদ্য আইনের আওতায় এনে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে সৈয়দপুর মুরগির হাটে প্রশাসনের যৌথ অভিযান পরিচালনা করে অসাধু চক্রটিকে চিহ্নিত ও গ্রেফতারের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির জোর দাবি জানানো হয়েছে।

28 October 2026

সৈয়দপুরে অস্বাস্থ্যকর মুরগির বর্জ্য বিক্রি: খাদ্যনিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে

Spread the love
জনপ্রিয়

রিক্রুটিং লাইসেন্স পেল ‘প্রান্তিক শক্তি লিমিটেড’

সৈয়দপুরে অস্বাস্থ্যকর মুরগির বর্জ্য বিক্রি: খাদ্যনিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে

আপডেট সময় : ০৬:২৭:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

ওবায়দুল ইসলাম,নীলফামারী: নীলফামারীর সৈয়দপুরে কতিপয় অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মুরগির ফেলে দেওয়া বর্জ্য ও নাড়িভুঁড়ি বিক্রি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী মুরগির নাড়িভুঁড়ি নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা বা মাটিতে পুঁতে ফেলার কথা থাকলেও তা প্রায় ১২ টাকা কেজি দরে দূরবর্তী এলাকার ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। এরপর প্রতিদিন ভ্যানে করে ড্রামভর্তি এসব বর্জ্য দিনাজপুরের চিরিরবন্দর ও রানীরবন্দরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

যদিও বর্জ্য পরিবহনকারীরা এসব নাড়িভুঁড়ি পুকুরের মাছের খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের দাবি করছেন, তবে স্থানীয়দের অভিযোগ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। অভিযোগ রয়েছে, এসব বর্জ্যের একটি বড় অংশ গরম পানিতে পরিষ্কার করে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে, যা কিনে নিচ্ছেন কিছু অসাধু হোটেল ব্যবসায়ী। ফেলে দেওয়া এসব অনিরাপদ ও অপরিষ্কার বর্জ্য দিয়ে তৈরি মুখরোচক খাবার সাধারণ মানুষের খাবারের তালিকায় ঢুকে পড়ায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট সৈয়দপুর মুরগির হাটে গোপনে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি ড্রামে নাড়িভুঁড়ি ভর্তি করে ভ্যানে তোলার প্রস্তুতি চলছে। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে পরিবহনকারীরা সাময়িকভাবে সরে গেলেও পরে চিরিরবন্দর ও রানীরবন্দরের আরও লোক এই ব্যবসায় জড়িত বলে দাবি করেন। এ সময় কিছু অসাধু মুরগি ব্যবসায়ী বিক্রি নিষেধ হওয়ার পরেও কেন বর্জ্য বিক্রি করছেন—এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান।

এমতাবস্থায় মুরগির নাড়িভুঁড়ি সংগ্রহ, পরিবহন ও বিক্রির পুরো প্রক্রিয়াটি নিরাপদ খাদ্য আইনের আওতায় এনে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় সচেতন মহল। একই সঙ্গে সৈয়দপুর মুরগির হাটে প্রশাসনের যৌথ অভিযান পরিচালনা করে অসাধু চক্রটিকে চিহ্নিত ও গ্রেফতারের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির জোর দাবি জানানো হয়েছে।

28 October 2026

সৈয়দপুরে অস্বাস্থ্যকর মুরগির বর্জ্য বিক্রি: খাদ্যনিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে

Spread the love