০৭:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সাভার সাব-রেজিস্ট্রিতে ঘুষের নির্ধারিত রেট

রুবেল পারভেজের সম্পদের উৎস নিয়ে বিতর্ক

  • আপডেট সময় : ০৬:৪৭:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • 20

রুবেল পারভেজের সম্পদের উৎস নিয়ে বিতর্ক

সরকারি বেতন-ভাতা দিয়ে কি ঢাকা শহরে ১৬টি ফ্ল্যাট, কোটি টাকার জমি আর বিলাসবহুল গাড়ি-মোটরসাইকেলের মালিক হওয়া সম্ভব? সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার এস এম রুবেল পারভেজের ক্ষেত্রে হয়তো সম্ভব। তাঁর বিরুদ্ধে আয়ের উৎসের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ অন্তত ৩০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এক ভয়াভয় ঘুস সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকে।

অভিযোগ উঠেছে, সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দুর্নীতির এক প্রকাশ্য আড়ত। যেখানে সাব-রেজিস্ট্রার রুবেল পারভেজের প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করছে তথাকথিত ‘ওমেদা সিন্ডিকেট’। যার মূল হোতা পলাশ ও খলিল। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের কথার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই খোদ সাব-রেজিস্ট্রারেরও।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এই সিন্ডিকেটের নির্ধারিত রেট অনুযায়ী—জমির পাওয়ার বা আমমোক্তারনামা করতে প্রতি শতাংশে পলাশকে দিতে হয় ১০ হাজার টাকা। সমিতির জমি বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতি শতাংশে ১৫ হাজার টাকা! আর হেবা ও ওয়ারিশ বন্টননামা দলিলের ক্ষেত্রে প্রতি শতাংশে নেওয়া হয় ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। যার সিংহভাগ চলে যায় সাব-রেজিস্ট্রারের পকেটে, আর বাকিটা ভাগ হয় ওমেদা সিন্ডিকেটের মাঝে।

শুধু ঘুষ গ্রহণই নয়, এই চক্রের বিরুদ্ধে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ে জমা হওয়া এক অভিযোগে। বিধি মোতাবেক সমিতি বা কোম্পানির জমি নিবন্ধনে ১২ শতাংশ উৎস কর বা গেইন ট্যাক্স দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, বড় অংকের ঘুসের বিনিময়ে তা ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তির নামে দলিল রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।কিন্তু এই ঘুসের টাকা যায় কোথায়? অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক বিশাল সম্পদের সাম্রাজ্য। সরকারি চাকরিতে যোগদানের আগে রুবেল পারভেজের পরিবার ভাড়া বাসায় থাকলেও, এখন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের পশ্চিম মাটিকাটা এলাকাতেই তাঁদের রয়েছে অন্তত ১৬টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও শেয়ার। যার বাজারমূল্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা! এই সম্পদগুলো গড়ে তোলা হয়েছে রুবেল পারভেজ, তাঁর বাবা মোশারফ হোসেন, মা রীনা বেগম, ভাই রফিকুল ইসলাম ও স্ত্রীর নামে।

এখানেই শেষ নয়, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বেনামে রয়েছে প্লট ও জমি। চড়েন টয়োটা এক্সিও গাড়ি আর শখের রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেলে। দুদকে জমা পড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্পদ আড়াল করতে নিকটাত্মীয়দের নামে জমি কিনে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

এসব গুরুতর অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাব-রেজিস্ট্রার এস এম রুবেল পারভেজের মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাধারণ মানুষের রক্ত পানি করা টাকা আর সরকারের রাজস্ব লুটে তৈরি করা এই সম্পদের পাহাড়ের সুষ্ঠু তদন্ত চায় ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে সাভার সাব রেজিস্ট্রার অফিসে গড়ে ওঠা শক্তিশালী দুর্নীতির সিন্ডিকেট নির্মূলের দাবিও জানান সাধারণ মানুষ।

3 October 2026

রুবেল পারভেজের সম্পদের উৎস নিয়ে বিতর্ক

Spread the love
জনপ্রিয়

ডিএমপির ১১ পরিদর্শককে বিভিন্ন রেঞ্জ ও ইউনিটে বদলি

সাভার সাব-রেজিস্ট্রিতে ঘুষের নির্ধারিত রেট

রুবেল পারভেজের সম্পদের উৎস নিয়ে বিতর্ক

আপডেট সময় : ০৬:৪৭:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি বেতন-ভাতা দিয়ে কি ঢাকা শহরে ১৬টি ফ্ল্যাট, কোটি টাকার জমি আর বিলাসবহুল গাড়ি-মোটরসাইকেলের মালিক হওয়া সম্ভব? সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার এস এম রুবেল পারভেজের ক্ষেত্রে হয়তো সম্ভব। তাঁর বিরুদ্ধে আয়ের উৎসের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ অন্তত ৩০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে এক ভয়াভয় ঘুস সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকে।

অভিযোগ উঠেছে, সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিস দুর্নীতির এক প্রকাশ্য আড়ত। যেখানে সাব-রেজিস্ট্রার রুবেল পারভেজের প্রধান সহযোগী হিসেবে কাজ করছে তথাকথিত ‘ওমেদা সিন্ডিকেট’। যার মূল হোতা পলাশ ও খলিল। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের কথার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই খোদ সাব-রেজিস্ট্রারেরও।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ এই সিন্ডিকেটের নির্ধারিত রেট অনুযায়ী—জমির পাওয়ার বা আমমোক্তারনামা করতে প্রতি শতাংশে পলাশকে দিতে হয় ১০ হাজার টাকা। সমিতির জমি বিক্রির ক্ষেত্রে প্রতি শতাংশে ১৫ হাজার টাকা! আর হেবা ও ওয়ারিশ বন্টননামা দলিলের ক্ষেত্রে প্রতি শতাংশে নেওয়া হয় ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। যার সিংহভাগ চলে যায় সাব-রেজিস্ট্রারের পকেটে, আর বাকিটা ভাগ হয় ওমেদা সিন্ডিকেটের মাঝে।

শুধু ঘুষ গ্রহণই নয়, এই চক্রের বিরুদ্ধে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ে জমা হওয়া এক অভিযোগে। বিধি মোতাবেক সমিতি বা কোম্পানির জমি নিবন্ধনে ১২ শতাংশ উৎস কর বা গেইন ট্যাক্স দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, বড় অংকের ঘুসের বিনিময়ে তা ফাঁকি দিয়ে ব্যক্তির নামে দলিল রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।কিন্তু এই ঘুসের টাকা যায় কোথায়? অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক বিশাল সম্পদের সাম্রাজ্য। সরকারি চাকরিতে যোগদানের আগে রুবেল পারভেজের পরিবার ভাড়া বাসায় থাকলেও, এখন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের পশ্চিম মাটিকাটা এলাকাতেই তাঁদের রয়েছে অন্তত ১৬টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও শেয়ার। যার বাজারমূল্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা! এই সম্পদগুলো গড়ে তোলা হয়েছে রুবেল পারভেজ, তাঁর বাবা মোশারফ হোসেন, মা রীনা বেগম, ভাই রফিকুল ইসলাম ও স্ত্রীর নামে।

এখানেই শেষ নয়, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বেনামে রয়েছে প্লট ও জমি। চড়েন টয়োটা এক্সিও গাড়ি আর শখের রয়্যাল এনফিল্ড মোটরসাইকেলে। দুদকে জমা পড়া অভিযোগে বলা হয়েছে, সম্পদ আড়াল করতে নিকটাত্মীয়দের নামে জমি কিনে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

এসব গুরুতর অনিয়ম ও অবৈধ সম্পদের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাব-রেজিস্ট্রার এস এম রুবেল পারভেজের মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাধারণ মানুষের রক্ত পানি করা টাকা আর সরকারের রাজস্ব লুটে তৈরি করা এই সম্পদের পাহাড়ের সুষ্ঠু তদন্ত চায় ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে সাভার সাব রেজিস্ট্রার অফিসে গড়ে ওঠা শক্তিশালী দুর্নীতির সিন্ডিকেট নির্মূলের দাবিও জানান সাধারণ মানুষ।

3 October 2026

রুবেল পারভেজের সম্পদের উৎস নিয়ে বিতর্ক

Spread the love