০৪:৫৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেসি ও মার্টিনেজের শেষ মুহূর্তের গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

  • আপডেট সময় : ১২:৪৮:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • 97

মেসি ও মার্টিনেজের শেষ মুহূর্তের গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

পিছিয়ে থেকেও লিওনেল মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্স এবং লটারো মার্টিনেজের ৯২ মিনিটের নাটকীয় গোলে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। আগামী রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৪৮ দলের এই ঐতিহাসিক বিশ্বকাপের ফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য অপেক্ষায় আছে ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ৩৯ বছর বয়সে এসে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়া লিওনেল মেসি এই জয়ের মাধ্যমে ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর পর মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করলেন। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর অনেকের কাছেই মনে হয়েছিল মেসির ক্যারিয়ার শেষের পথে, তবে এই ম্যাচ দিয়ে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন যে তিনি এখনও ফুরিয়ে যাননি। এবার প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে প্রথমবারের মতো তাঁর প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে স্পেন, যেখানে ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে আর্জেন্টিনার সামনে সুযোগ থাকছে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার।

অন্যদিকে, ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার সোনালী স্বপ্ন পূরণ হতে হতেও স্বপ্নভঙ্গ হলো ইংল্যান্ডের। আটালান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ৬৮ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের প্রথমার্ধ ছিল ফাউল ও টানটান উত্তেজনায় ঠাসা। প্রথমার্ধে কোনো গোল না হলেও দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫তম মিনিটে হ্যারি কেনের সূত্র ধরে মর্গান রজার্সের নিচু ক্রসে নাহুয়েল মোলিনাকে ফাঁকি দিয়ে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নেন অ্যান্থনি গর্ডন। এই গোলের পর উল্লাসে ফেটে পড়ে ইংলিশ শিবির। ৬০ বছর পর ফাইনালে ওঠার খুব কাছে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ার খেসারত দিতে হলো থমাস টাচেলের দলকে। পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ খেলা জুড বেলিংহাম ও অধিনায়ক হ্যারি কেন এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হন, যার ফলে শেষ বাঁশি বাজতেই হতাশায় মাঠে লুটিয়ে পড়েন ইংলিশ খেলোয়াড়রা। এই পরাজয়ের পর ইংল্যান্ডের শিরোপার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো এবং আগামী শনিবার মিয়ামিতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তাদের মুখোমুখি হতে হবে ফ্রান্সের।

তবে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি আর্জেন্টিনা। চলতি বিশ্বকাপে এই স্টেডিয়ামেই শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও যেভাবে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, এবারও সেই একই মানসিকতার পরিচয় দিল আলবিসেলেস্তেরা। সমতা ফেরাতে সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। নিকো গঞ্জালেস ও এনজো ফার্নান্দেজের প্রচেষ্টা ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড দুর্দান্ত দক্ষতায় ফিরিয়ে দিলেও এবং আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হলেও আর্জেন্টিনার আক্রমণ থামানো যায়নি। ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে বক্সের প্রান্ত থেকে লিওনেল মেসির পাস ধরে দুর্দান্ত শটে পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। ম্যাচে ফিরেই আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ম্যাক অ্যালিস্টারের আরেকটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসার পর, ম্যাচের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (৯২ মিনিটে) মেসির একটি নিখুঁত ও অসাধারণ ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোলটি করেন বদলি খেলোয়াড় লটারো মার্টিনেজ। ম্যাচের শেষ মুহূর্তের এই দুই বিধ্বংসী আঘাতে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে এসে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল আর্জেন্টিনা।

1 October 2026

মেসি ও মার্টিনেজের শেষ মুহূর্তের গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

Spread the love
জনপ্রিয়

করতোয়া নদীর আউলিয়ার ঘাট নৌ-ট্র্যাজেডির ৪ বছর, স্বজন হারানোর ক্ষত এখনও শুকায়নি

মেসি ও মার্টিনেজের শেষ মুহূর্তের গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

আপডেট সময় : ১২:৪৮:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

পিছিয়ে থেকেও লিওনেল মেসির জাদুকরী পারফরম্যান্স এবং লটারো মার্টিনেজের ৯২ মিনিটের নাটকীয় গোলে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। আগামী রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৪৮ দলের এই ঐতিহাসিক বিশ্বকাপের ফাইনালে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য অপেক্ষায় আছে ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ৩৯ বছর বয়সে এসে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়া লিওনেল মেসি এই জয়ের মাধ্যমে ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর পর মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার অনন্য কৃতিত্ব অর্জন করলেন। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর অনেকের কাছেই মনে হয়েছিল মেসির ক্যারিয়ার শেষের পথে, তবে এই ম্যাচ দিয়ে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন যে তিনি এখনও ফুরিয়ে যাননি। এবার প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে প্রথমবারের মতো তাঁর প্রতিপক্ষ হতে যাচ্ছে স্পেন, যেখানে ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে আর্জেন্টিনার সামনে সুযোগ থাকছে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার।

অন্যদিকে, ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার সোনালী স্বপ্ন পূরণ হতে হতেও স্বপ্নভঙ্গ হলো ইংল্যান্ডের। আটালান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ৬৮ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ের প্রথমার্ধ ছিল ফাউল ও টানটান উত্তেজনায় ঠাসা। প্রথমার্ধে কোনো গোল না হলেও দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫তম মিনিটে হ্যারি কেনের সূত্র ধরে মর্গান রজার্সের নিচু ক্রসে নাহুয়েল মোলিনাকে ফাঁকি দিয়ে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নেন অ্যান্থনি গর্ডন। এই গোলের পর উল্লাসে ফেটে পড়ে ইংলিশ শিবির। ৬০ বছর পর ফাইনালে ওঠার খুব কাছে পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ার খেসারত দিতে হলো থমাস টাচেলের দলকে। পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ খেলা জুড বেলিংহাম ও অধিনায়ক হ্যারি কেন এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হন, যার ফলে শেষ বাঁশি বাজতেই হতাশায় মাঠে লুটিয়ে পড়েন ইংলিশ খেলোয়াড়রা। এই পরাজয়ের পর ইংল্যান্ডের শিরোপার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো এবং আগামী শনিবার মিয়ামিতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তাদের মুখোমুখি হতে হবে ফ্রান্সের।

তবে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি আর্জেন্টিনা। চলতি বিশ্বকাপে এই স্টেডিয়ামেই শেষ ষোলোর ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও যেভাবে তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, এবারও সেই একই মানসিকতার পরিচয় দিল আলবিসেলেস্তেরা। সমতা ফেরাতে সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে তারা। নিকো গঞ্জালেস ও এনজো ফার্নান্দেজের প্রচেষ্টা ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড দুর্দান্ত দক্ষতায় ফিরিয়ে দিলেও এবং আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট পোস্টে লেগে প্রতিহত হলেও আর্জেন্টিনার আক্রমণ থামানো যায়নি। ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে বক্সের প্রান্ত থেকে লিওনেল মেসির পাস ধরে দুর্দান্ত শটে পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। ম্যাচে ফিরেই আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ম্যাক অ্যালিস্টারের আরেকটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসার পর, ম্যাচের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (৯২ মিনিটে) মেসির একটি নিখুঁত ও অসাধারণ ক্রস থেকে হেডে জয়সূচক গোলটি করেন বদলি খেলোয়াড় লটারো মার্টিনেজ। ম্যাচের শেষ মুহূর্তের এই দুই বিধ্বংসী আঘাতে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে এসে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল আর্জেন্টিনা।

1 October 2026

মেসি ও মার্টিনেজের শেষ মুহূর্তের গোলে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

Spread the love