স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ৪৯তম বিসিএসের বিশেষ শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো ধরনের বৈষম্য করা হবে না। প্রজ্ঞাপন জারির আগে কিছু নিয়মিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। বাকি ৪৬ জনের প্রজ্ঞাপন জারির দিন আগামী সোমবার।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৪৯তম বিসিএসের বিশেষ শিক্ষা ক্যাডারে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিএসসি) থেকে প্রথমে ৬৬৮ জনকে সুপারিশ করার কথা বলা হলেও প্রকৃত সংখ্যা ৬৫ জন। তাদের মধ্যে তিনজন প্রয়োজনীয় সনদ জমা দিতে পারেননি এবং আটজন মেডিকেল পরীক্ষায় উপস্থিত হননি। ফলে সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৫৭ জনে। এর মধ্যে ৬১১ জনের প্রজ্ঞাপন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাকি ৪৬ জনেরও প্রজ্ঞাপন জারি হবে। এজন্য নির্ধারিত প্রক্রিয়া চলছে। প্রজ্ঞাপনের ফাইল রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত যেতে হয়। তাই এ বিষয়ে ধৈর্য ধরার আহবান।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারও নিয়োগ আটকে দেওয়া হচ্ছে এমন আলোচনা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বক্তব্যের কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। আমরা বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য অঙ্গীকার করেছি। রাজনৈতিক পরিচয় যেটাই হোক, কোনো পরীক্ষা বা নিয়োগের ক্ষেত্রে সে কারণে কারও প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করা হবে না।
তিনি বলেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন একটি নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক প্রক্রিয়া। কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ বা আদালতে দণ্ডের বিষয় থাকলে বিধি অনুযায়ী তা যাচাই করা হয়। তবে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নিয়ে কাউকে বাদ দেওয়ার সুযোগ নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন ৪৯তম বিসিএসের নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ ভেরিফিকেশনের নামে হয়রানি বন্ধের দাবি তুলেছেন। কিন্তু ভেরিফিকেশন সব সরকারের সময়ই বিধি অনুযায়ী হয়ে থাকে। এখনো সেই সময় আসেনি যে ভেরিফিকেশনের কারণে কারও নিয়োগ হচ্ছে না এমন ধারণা করার। কারও বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের কারণে নিয়োগ না হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ বা আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তবে বর্তমানে এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উত্তেজনা সৃষ্টি করার কোনো কারণ নেই।
মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে অপতথ্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত করা উচিত নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।




















