০৫:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদ হারাচ্ছেন বিএনপির একাধিক এমপি-মন্ত্রী, আলোচনায় যেসব নাম: এক নেতা এক পদ

  • আপডেট সময় : ০১:১৮:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
  • 23

পদ হারাচ্ছেন বিএনপির একাধিক এমপি-মন্ত্রী, আলোচনায় যেসব নাম: এক নেতা এক পদ

দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও ক্ষমতার পালাবদলের পর সরকার ও বিএনপির সম্পর্ক এখন অনেকটাই সমান্তরাল অবস্থানে পৌঁছেছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ একই সঙ্গে দলীয় রাজনীতিতেও প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন। এতে প্রশাসনিক দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্যহীনতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে দলটির নীতিনির্ধারক মহল। এমন বাস্তবতায় কেন্দ্রীয় পদ ছাড়া জেলা, মহানগর ও থানা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ থেকে মন্ত্রী ও এমপিদের সরিয়ে দেওয়ার চিন্তা করছে বিএনপি। দলীয় সূত্র বলছে, নতুন নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ সৃষ্টি এবং সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও গতিশীল করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সরকারের দায়িত্বে থাকা অনেক মন্ত্রী-এমপিকে দলীয় পদ ছাড়তে হতে পারে। একইসঙ্গে বিএনপিতে দীর্ঘদিন আলোচিত ‘এক নেতার এক পদ’ নীতিও কার্যকর হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরের একটি বাড়ির নির্দিষ্ট গণ্ডি থেকে বের করে রাজনীতিকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন। যারা মন্ত্রী-এমপি থাকবেন, তারা দলীয় কোনো পদে থাকবেন না— জিয়াউর রহমানের এ মডেল অনুসরণ করেই ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি চালু করেছিল বিএনপি। ২০১৬ সালে দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে বিষয়টি গঠনতন্ত্রেও যুক্ত করা হয়।

জানা গেছে, ঢাকা মহানগর বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল—এই তিন সংগঠনের অন্তত ছয়জন নেতা ইতোমধ্যে এমপি ও মন্ত্রী হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এরা হলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা-১৮ আসনে উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, ফেনী-১ আসনে দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, ভোলা-৪ আসনে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, গোপালগঞ্জ-৩ আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী এবং বরিশাল-৪ আসনে সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান। তাদেরকে সরিয়ে দিয়ে বর্তমানে এই তিন ইউনিটের নতুন কমিটি গঠনের কাজ চলমান রয়েছে।

সংসদ সদস্যের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা ও মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদেও আছেন অনেকে। এদের মধ্যে রয়েছেন লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, লালমনিরহাট-৩ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ও রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ত্রাণ ও দুর্যোগমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কক্সবাজার-৪ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, মাগুরা-১ আসনে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন খান, চট্টগ্রাম-৮ আসনে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্যাহ, মাদারীপুর-২ আসনে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহান্দার আলী জাহান, নড়াইল-১ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাচিং প্রু, সিলেট-৬ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, নরসিংদী-১ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ও দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-৩ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহী, নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর) জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল গফুর সরকার, জামালপুর-৪ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম, জামালপুর-৫ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, চাঁদপুর-৩ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলসহ আরও অনেক সংসদ সদস্য।

এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে দল ও সরকারের মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য ছিল। সেই সময় দলের যেসব নেতা সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হতেন, তারা জেলার সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে থাকলে অন্যদের নেতৃত্বের সুযোগ করে দিতে পদত্যাগ করতেন। এতে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হতো এবং আমাদের প্রতিষ্ঠাতা এটিকে উৎসাহিত করতেন। এ ধরণের রেওয়াজ তিনি দলে অনেকটাই বাস্তবায়ন করেছিলেন। এই মডেল অনুসরণ করেই ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র তিন মাস। আগামী দিনে সরকার ও দলের নতুন সাংগঠনিক কাজ সমন্বয়ের মধ্য দিয়েই এগোবে। অতীতে অনেক নেতা একাধিক পদে ছিলেন, কিন্তু এখন হয়তো ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি পুরোপুরি কার্যকর হতে পারে। কাউকে সরাসরি সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করে দল ও সরকার পরিচালনা করবেন—এটাই স্বাভাবিক এবং দীর্ঘ সময় ধরে তিনি তা-ই করে আসছেন।”

1 October 2026

পদ হারাচ্ছেন বিএনপির একাধিক এমপি-মন্ত্রী, আলোচনায় যেসব নাম: এক নেতা এক পদ

Spread the love
জনপ্রিয়

করতোয়া নদীর আউলিয়ার ঘাট নৌ-ট্র্যাজেডির ৪ বছর, স্বজন হারানোর ক্ষত এখনও শুকায়নি

পদ হারাচ্ছেন বিএনপির একাধিক এমপি-মন্ত্রী, আলোচনায় যেসব নাম: এক নেতা এক পদ

আপডেট সময় : ০১:১৮:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬

দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও ক্ষমতার পালাবদলের পর সরকার ও বিএনপির সম্পর্ক এখন অনেকটাই সমান্তরাল অবস্থানে পৌঁছেছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ একই সঙ্গে দলীয় রাজনীতিতেও প্রভাবশালী অবস্থানে রয়েছেন। এতে প্রশাসনিক দায়িত্ব ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্যহীনতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে দলটির নীতিনির্ধারক মহল। এমন বাস্তবতায় কেন্দ্রীয় পদ ছাড়া জেলা, মহানগর ও থানা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ থেকে মন্ত্রী ও এমপিদের সরিয়ে দেওয়ার চিন্তা করছে বিএনপি। দলীয় সূত্র বলছে, নতুন নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ সৃষ্টি এবং সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও গতিশীল করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে সরকারের দায়িত্বে থাকা অনেক মন্ত্রী-এমপিকে দলীয় পদ ছাড়তে হতে পারে। একইসঙ্গে বিএনপিতে দীর্ঘদিন আলোচিত ‘এক নেতার এক পদ’ নীতিও কার্যকর হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে ধানমন্ডি-৩২ নম্বরের একটি বাড়ির নির্দিষ্ট গণ্ডি থেকে বের করে রাজনীতিকে জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে গিয়েছিলেন। যারা মন্ত্রী-এমপি থাকবেন, তারা দলীয় কোনো পদে থাকবেন না— জিয়াউর রহমানের এ মডেল অনুসরণ করেই ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি চালু করেছিল বিএনপি। ২০১৬ সালে দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে বিষয়টি গঠনতন্ত্রেও যুক্ত করা হয়।

জানা গেছে, ঢাকা মহানগর বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল—এই তিন সংগঠনের অন্তত ছয়জন নেতা ইতোমধ্যে এমপি ও মন্ত্রী হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। এরা হলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা-১৮ আসনে উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন, ফেনী-১ আসনে দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, ভোলা-৪ আসনে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন, গোপালগঞ্জ-৩ আসনে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী এবং বরিশাল-৪ আসনে সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান। তাদেরকে সরিয়ে দিয়ে বর্তমানে এই তিন ইউনিটের নতুন কমিটি গঠনের কাজ চলমান রয়েছে।

সংসদ সদস্যের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা ও মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পদেও আছেন অনেকে। এদের মধ্যে রয়েছেন লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, লালমনিরহাট-৩ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ও রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ত্রাণ ও দুর্যোগমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, কক্সবাজার-৪ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, মাগুরা-১ আসনে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মনোয়ার হোসেন খান, চট্টগ্রাম-৮ আসনে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্যাহ, মাদারীপুর-২ আসনে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাহান্দার আলী জাহান, নড়াইল-১ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাচিং প্রু, সিলেট-৬ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, নরসিংদী-১ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ও দলের যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, নরসিংদী-৩ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুর এলাহী, নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর) জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল গফুর সরকার, জামালপুর-৪ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম, জামালপুর-৫ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন, চাঁদপুর-৩ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলসহ আরও অনেক সংসদ সদস্য।

এ বিষয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে দল ও সরকারের মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য ছিল। সেই সময় দলের যেসব নেতা সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হতেন, তারা জেলার সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক পদে থাকলে অন্যদের নেতৃত্বের সুযোগ করে দিতে পদত্যাগ করতেন। এতে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হতো এবং আমাদের প্রতিষ্ঠাতা এটিকে উৎসাহিত করতেন। এ ধরণের রেওয়াজ তিনি দলে অনেকটাই বাস্তবায়ন করেছিলেন। এই মডেল অনুসরণ করেই ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিএনপি।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সরকারের বয়স মাত্র তিন মাস। আগামী দিনে সরকার ও দলের নতুন সাংগঠনিক কাজ সমন্বয়ের মধ্য দিয়েই এগোবে। অতীতে অনেক নেতা একাধিক পদে ছিলেন, কিন্তু এখন হয়তো ‘এক নেতা এক পদ’ নীতি পুরোপুরি কার্যকর হতে পারে। কাউকে সরাসরি সরিয়ে দেওয়া নয়, বরং সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করে দল ও সরকার পরিচালনা করবেন—এটাই স্বাভাবিক এবং দীর্ঘ সময় ধরে তিনি তা-ই করে আসছেন।”

1 October 2026

পদ হারাচ্ছেন বিএনপির একাধিক এমপি-মন্ত্রী, আলোচনায় যেসব নাম: এক নেতা এক পদ

Spread the love