জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমার্ধেই জোড়া গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জর্ডান একটি গোল শোধ করে ব্যবধান কমালে, মাঠে নামেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। আর মাঠে নেমেই চিরচেনা ছন্দে গোল উৎসব করেন তিনি। এই একটি গোলের মাধ্যমেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে সম্পূর্ণ নতুন এক অনন্য অধ্যায় রচনা করলেন এই কিংবদন্তি। বিশ্বমঞ্চে টানা সাতটি ম্যাচে গোল করার এক অবিশ্বাস্য মাইলফলক স্পর্শ করে তিনি ভেঙে দিয়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার জাইরজিনিওর বহু বছরের পুরোনো রেকর্ড।
এর আগে ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে ফাইনাল পর্যন্ত টানা ছয়টি ম্যাচে গোল করার এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছিলেন ব্রাজিলের জাইরজিনিও, যা তাকে ফুটবল ইতিহাসে অমর করে রেখেছিল এবং সেবারই ব্রাজিল তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলে। অন্যদিকে, ফ্রান্সের জাস্ট ফঁতেইঁও এক আসরে টানা ছয় ম্যাচে ১৩ গোল করার নজির গড়েছিলেন। তবে জাইরজিনিও ও ফঁতেইঁ একই আসরে এই কীর্তি গড়লেও, মেসির এই রেকর্ড ভাঙার যাত্রা শুরু হয়েছিল ভিন্ন ভিন্ন আসর মিলিয়ে।
মেসির এই অনন্য মহাকাব্যিক যাত্রার সূত্রপাত হয়েছিল ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে, যেখানে নকআউট পর্ব থেকে ফাইনাল পর্যন্ত টানা চার ম্যাচে তিনি অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে জাল খুঁজে পেয়েছিলেন। এরপর ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে পরপর গোল করে তিনি জাইরজিনিও ও ফঁতেইঁয়ের টানা ছয় ম্যাচের রেকর্ডে ভাগ বসান। অবশেষে জর্ডানের বিপক্ষে লক্ষ্যভেদ করে পূর্বসূরিদের ছাড়িয়ে গিয়ে টানা সাত ম্যাচে গোলের একক বিশ্বরেকর্ড এখন শুধুই লিওনেল মেসির।























