চলতি বিশ্বকাপে ১৫ জুনের দিনটি ফুটবল ভক্তদের জন্য ছিল চরম চমক আর রোমাঞ্চে ভরপুর। এদিন মাঠে নামা চার ম্যাচের একটিতেও কোনো দল জয়ের মুখ দেখেনি। স্পেন, বেলজিয়াম ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী পরাশক্তিদের আটকে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা। তবে দিনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর লড়াইটি হয়েছে ‘জি’ গ্রুপে ইরান ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে, যা শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের সমতায় শেষ হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে দুইবার পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক পয়েন্ট তুলে নিয়েছে ইরান। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। ৭ মিনিটে নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক ক্রিস উডের পাস থেকে এলিজা জাস্ট গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। ২৩ মিনিটে মেহদি তারেমির শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে ইরান হতাশ হলেও ৩২ মিনিটে বক্সের ভেতরের জটলা থেকে রামিন রেজাইয়ান গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। ১-১ সমতায় প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর ৫৫ মিনিটে ক্রিস উডের সহায়তায় নিজের দ্বিতীয় গোল করে নিউজিল্যান্ডকে আবারও লিড এনে দেন এলিজা জাস্ট। তবে হার না মানা ইরান ৬৪ মিনিটে ম্যাচে ফেরে; রামিন রেজাইয়ানের নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করেন মোহাম্মদ মোহেবি। প্রথম গোলের পর দ্বিতীয় গোলে অবদান রেখে ম্যাচের অন্যতম নায়ক বনে যান রেজাইয়ান। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দুই দল মরিয়া চেষ্টা করলেও ম্যাচটি ২-২ সমতায় শেষ হয় এবং উভয় দলই এক পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করে।
অন্য ম্যাচে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করেছে সৌদি আরব। গত বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চমকে দেওয়া সৌদি আরব এবারও উরুগুয়ের বিপক্ষে শুরুতে এগিয়ে গিয়েছিল। তবে দ্বিতীয়ার্ধে উরুগুয়ে ম্যাচে সমতা ফেরালে শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্রয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়। উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এক পয়েন্ট পাওয়ায় সৌদির পরের পর্বে যাওয়ার পথ সহজ হলো।
এদিকে জয়ের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে মিশরের। বেলজিয়ামের বিপক্ষে পুরো ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত ফুটবল খেলেও কেবল একটি ভুলের খেসারত দিতে হয়েছে তাদের। মোহাম্মদ হানির আত্মঘাতী গোলের কারণে ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হওয়ায় দুই পয়েন্ট হারাতে হয় মিশরকে। অন্যদিকে, দিনের সবচেয়ে বড় অঘটনটি ঘটিয়েছে কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার পরাশক্তি স্পেনকে গোলশূন্য (০-০) ড্রয়ে আটকে দিয়েছে তারা। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর স্পেনের ফুটবলারদের চোখে-মুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট থাকলেও, কেপ ভার্দের খেলোয়াড়দের চোখে ছিল আনন্দাশ্রু। সামর্থ্য ও পরিসংখ্যানের সব পূর্বাভাসকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কেপ ভার্দে ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে আরও একটি নতুন রূপকথার জন্ম দিল।























