১০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত অগ্রগতিতে মানবজাতির অস্তিত্ব হুমকির মুখে: ধীরগতির আহ্বান গবেষক ও বিশ্বনেতাদের

  • আপডেট সময় : ০১:২৩:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 111

এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত অগ্রগতিতে মানবজাতির অস্তিত্ব হুমকির মুখে: ধীরগতির আহ্বান গবেষক ও বিশ্বনেতাদের

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের নজিরবিহীন অগ্রগতি বিশ্বজুড়ে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খোলার পাশাপাশি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত বিকাশ ঠেকাতে এর লাগাম টানার ওপর জোর দিচ্ছেন গবেষক, প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিবিদেরা। সম্প্রতি অ্যানথ্রোপিকের সাবেক গবেষক ২৭ বছর বয়সী জ্যাকব কক্সন সতর্ক করে বলেছেন, এআইয়ের বর্তমান অগ্রগতির গতি কমানো না হলে সবাই মারা যাওয়ার মতো চরম বিপর্যয় ঘটতে পারে।

অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইও স্বীকার করেছেন যে এআইয়ের ঝুঁকি অত্যন্ত গম্ভীর এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে বাড়তি সময় নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর আশঙ্কা, আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে বিপুলসংখ্যক স্বয়ংক্রিয় এআই মডেল বা এজেন্ট জোট বেঁধে পুরো ইন্টারনেটের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে, যা শত শত বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই সতর্কবার্তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং এক্সএআইয়ের প্রধান ইলন মাস্ক। তারা পুরো এআই খাতে কঠোর নিয়মনীতি, স্বাধীন তদারকি এবং সতর্কতা অবলম্বনের পক্ষে মত দিয়েছেন।

ইতিমধ্যেই এআই প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত আচরণ ও অপব্যবহারের বাস্তব উদাহরণ সামনে এসেছে। অ্যানথ্রোপিকের সাম্প্রতিক ‘থ্রেট ইন্টেলিজেন্স’ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কীভাবে অপশক্তিগুলো সাইবার হামলা, অস্ত্র তৈরি ও জালিয়াতিতে এআই ব্যবহারের চেষ্টা করছে। এ ছাড়া ওপেনএআই এবং হাগিং ফেসের মতো প্ল্যাটফর্মে এআই এজেন্টের স্বাধীনভাবে বাইরের সিস্টেমে প্রবেশ ও ওয়েবসাইট হাইজ্যাক করার মতো ঘটনা গবেষকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই সংকট মোকাবিলায় শুধু মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সমঝোতাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাবেক মার্কিন গবেষক কক্সন এবং সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ঐক্যের তাগিদ দিয়েছেন। স্যান্ডার্স মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে সমন্বিতভাবে এআইয়ের অগ্রগতির গতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও এআই নিয়ন্ত্রণ ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। বিশেষজ্ঞদের মূল দাবি—এআইয়ের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি পুরোপুরি বন্ধ না করে, শক্তিশালী মডেল বাজারে ছাড়ার আগে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পরীক্ষা ও যাচাইযোগ্য আন্তর্জাতিক তদারকি নিশ্চিত করা।

31 October 2026

এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত অগ্রগতিতে মানবজাতির অস্তিত্ব হুমকির মুখে: ধীরগতির আহ্বান গবেষক ও বিশ্বনেতাদের

Spread the love
জনপ্রিয়
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত

কল্যাণপুরে মোহাম্মদপুরের নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মশাল মিছিল

এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত অগ্রগতিতে মানবজাতির অস্তিত্ব হুমকির মুখে: ধীরগতির আহ্বান গবেষক ও বিশ্বনেতাদের

আপডেট সময় : ০১:২৩:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের নজিরবিহীন অগ্রগতি বিশ্বজুড়ে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খোলার পাশাপাশি মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত বিকাশ ঠেকাতে এর লাগাম টানার ওপর জোর দিচ্ছেন গবেষক, প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিবিদেরা। সম্প্রতি অ্যানথ্রোপিকের সাবেক গবেষক ২৭ বছর বয়সী জ্যাকব কক্সন সতর্ক করে বলেছেন, এআইয়ের বর্তমান অগ্রগতির গতি কমানো না হলে সবাই মারা যাওয়ার মতো চরম বিপর্যয় ঘটতে পারে।

অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেইও স্বীকার করেছেন যে এআইয়ের ঝুঁকি অত্যন্ত গম্ভীর এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা জোরদারে বাড়তি সময় নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর আশঙ্কা, আগামী ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে বিপুলসংখ্যক স্বয়ংক্রিয় এআই মডেল বা এজেন্ট জোট বেঁধে পুরো ইন্টারনেটের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে, যা শত শত বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির কারণ হতে পারে। এই সতর্কবার্তার সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যান এবং এক্সএআইয়ের প্রধান ইলন মাস্ক। তারা পুরো এআই খাতে কঠোর নিয়মনীতি, স্বাধীন তদারকি এবং সতর্কতা অবলম্বনের পক্ষে মত দিয়েছেন।

ইতিমধ্যেই এআই প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত আচরণ ও অপব্যবহারের বাস্তব উদাহরণ সামনে এসেছে। অ্যানথ্রোপিকের সাম্প্রতিক ‘থ্রেট ইন্টেলিজেন্স’ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কীভাবে অপশক্তিগুলো সাইবার হামলা, অস্ত্র তৈরি ও জালিয়াতিতে এআই ব্যবহারের চেষ্টা করছে। এ ছাড়া ওপেনএআই এবং হাগিং ফেসের মতো প্ল্যাটফর্মে এআই এজেন্টের স্বাধীনভাবে বাইরের সিস্টেমে প্রবেশ ও ওয়েবসাইট হাইজ্যাক করার মতো ঘটনা গবেষকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই সংকট মোকাবিলায় শুধু মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক সমঝোতাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাবেক মার্কিন গবেষক কক্সন এবং সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ঐক্যের তাগিদ দিয়েছেন। স্যান্ডার্স মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে সমন্বিতভাবে এআইয়ের অগ্রগতির গতি নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও এআই নিয়ন্ত্রণ ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। বিশেষজ্ঞদের মূল দাবি—এআইয়ের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি পুরোপুরি বন্ধ না করে, শক্তিশালী মডেল বাজারে ছাড়ার আগে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা পরীক্ষা ও যাচাইযোগ্য আন্তর্জাতিক তদারকি নিশ্চিত করা।

31 October 2026

এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত অগ্রগতিতে মানবজাতির অস্তিত্ব হুমকির মুখে: ধীরগতির আহ্বান গবেষক ও বিশ্বনেতাদের

Spread the love