নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ইউনিয়নের বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অপকর্মের অভিযোগ উঠলেও তার বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
খবর নিয়ে জানা যায়, বক্তাবলিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, মাটিকাটা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি সহ তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। দলীয় পদ ব্যবহার করে একের পর এক অপকর্মে জড়িয়ে পুরো বক্তব্য ইউনিয়নে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকটি ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে তার এই কর্মকান্ডে বিশেষ করে তার চাঁদাবাজি ও বিরুদ্ধে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে কথা বলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির এনসিপির এক নেতাকে কুপিয়ে আহত করেছে।
শুধু তাই নয় সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কাদের সিপাহের বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালায় শুধুমাত্র হামলা লুটপাট করে ক্ষান্ত থাকেনি এই হালিম আজাদ। তার এই কর্মকান্ডে বাধা দেওয়ায় হৃদয় নামে এক যুবককে প্রকাশ্য গুলি করে আহত করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা নাছিমা বাদী হয়ে ফতুল্লা থানায় একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলার এজাহারে নাম থাকা
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফতুল্লার বক্তাবলী ইউনিয়নের আকবরনগর এলাকায় বিছনা ওয়ালার বাড়ির সামনে তিন রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। আহত হৃদয় শেখ (২৬) আকবরনগর এলাকার হাজী ছামেদ আলীর পেট্রোল পাম্প পরিচালনা করেন।
মামলার বাদী নাছিমার অভিযোগ, তাঁর ছেলে হৃদয় বাড়ি থেকে রিকশাযোগে পেট্রোল পাম্পে যাওয়ার পথে আগে থেকে বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় হালিম আজাদের নির্দেশে অন্য অভিযুক্তরা চাপাতি, ছোরা, চাকু, লোহার রড, কাঠের ডাসা, আগ্নেয়াস্ত্র ও টেঁটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হৃদয়ের ওপর হামলা চালান।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, হামলাকারীরা হৃদয়কে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন। একপর্যায়ে হালিম আজাদ তাঁর হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে হৃদয়কে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করেন। এতে হৃদয়ের ডান পায়ের হাঁটুর ওপর গুলি লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে গেলে অন্য অভিযুক্তরা তাঁকে মারধর করতে থাকেন।
বাদীর দাবি, এ সময় কয়েকজন অভিযুক্ত হৃদয়কে ধরে রাখেন এবং অন্যরা তাঁর পকেটে থাকা মানিব্যাগ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা ও গলায় থাকা আনুমানিক দুই লাখ টাকা মূল্যের এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যান। পরে হৃদয়কে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন অভিযুক্তরা।
খবর পেয়ে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত হৃদয়কে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাঁকে নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর), যা পঙ্গু হাসপাতাল নামে পরিচিত, ভর্তি করা হয়। এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর হৃদয় সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
মামলার এজাহারে হালিম আজাদ ছাড়াও মোজাম প্রধান, যদু, আলী হাসান, খবির, করিম উল্লাহ করিম, শামছুল, ইমরান, শরীফ, রমজান সানা, ইয়াসিন, মিলন, রাজু, সেলিমসহ একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন নারায়ণগঞ্জের বক্তাবলী ও আকবরনগর এলাকার বাসিন্দা। অন্য কয়েকজনের ঠিকানা মুন্সীগঞ্জ ও ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকায় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও সাত থেকে আটজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বাদী নাছিমার অভিযোগ, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা, মারধর, বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে আসছিলেন। তাঁদের কর্মকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্ক ও ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।






















