বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশের সময় তিন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমেই তিনি আজ সচিবালয়ে তাঁর দিনের কার্যক্রম শুরু করেন। মূলত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আত্মনির্ভরশীল করা এবং সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সরাসরি নিয়োগপত্র গ্রহণ করে আবেগাপ্লুত ও উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন এই তিন ব্যক্তি, যা তাঁদের জন্য এক নতুন স্বপ্ন ও কর্মজীবনের শুভসূচনা এনে দিয়েছে।
নিয়োগপ্রাপ্ত তিন ব্যক্তির একজন হলেন সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নীলা খাতুন। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকায় পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শারীরিক প্রতিবন্ধী নীলাকে রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনে শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একইভাবে পা দিয়ে লিখে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার আয়শা আক্তারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে গাইবান্ধার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্লাস সুপারভাইজার পদে। হাত না থাকায় তিনি মুখ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নিয়োগপত্র গ্রহণ করেন। এছাড়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মো. হাসমত আলীকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীন ইউনিয়ন সমাজকর্মী হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
নিয়োগপত্র হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল, সমাজকল্যাণ সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ, বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তরিকুল আলম এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। এদিকে প্রতিবন্ধী তিন ব্যক্তিকে এই কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়ায় বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা আবদুস সাত্তার দুলাল সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।























