বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ও প্রতিরক্ষা চুক্তি সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে সাবেক ও বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছ থেকে আশানুরূপ সুরক্ষা পাচ্ছে না সৌদি আরব—এমনটাই উঠে এসেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এ প্রকাশিত একটি কলামে। দীর্ঘদিন ধরে ওয়াশিংটনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) ট্রাম্প প্রশাসনকে বিভিন্ন লোভনীয় বাণিজ্য প্রস্তাব ও অস্ত্র কেনার চুক্তি উপহার দিলেও, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই কৌশল এখন বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে পড়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক নতুন মাত্রা পায়। গত নভেম্বরে ওয়াশিংটন সফরে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান মার্কিন সামরিক বাহিনীর অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ক্রয়ের পাশাপাশি বিশাল প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় স্বাক্ষর করেন। এছাড়া ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং জামাতা জারেড কুশনারের প্রাইভেট ইকুইটি ফার্মে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দেয় রিয়াদ। রিয়াদের মূল উদ্দেশ্য ছিল—সৌদি আরবের ওপর কোনো আক্রমণ হলে যুক্তরাষ্ট্র যাতে রক্ষাকবচ হিসেবে পাশে দাঁড়ায়।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাথে সৌদি আরবের নতুন করে সংঘর্ষ বাঁধার পর দৃশ্যপট পাল্টাতে শুরু করেছে। হুথিদের তীব্র আক্রমণ ও গত ১০ অক্টোবর রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরও ট্রাম্প প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে সৌদি আরবকে রক্ষায় সরাসরি বিমান হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকে। মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং মার্কিন জনগণের মধ্যে নতুন কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার অজনপ্রিয়তার কারণেই ট্রাম্পের এই অনীহা, যা সৌদি নীতিনির্ধারকদের এক চরম বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের লেনদেনভিত্তিক (Transactional) পররাষ্ট্রনীতির কারণে তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় দেশগুলো আজ এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। শত শত বিলিয়ন ডলার খরচ করেও ওয়াশিংটনের পূর্ণ সামরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, যা রিয়াদের আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।






















