কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ এলাকায় অটোরিকশাচালকদের টার্গেট করে নির্মমভাবে হত্যা ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত ‘সিরিয়াল কিলার’ আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিককে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মাধ্যমে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুটি চাঞ্চল্যকর তরুণ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। অভিযুক্ত মানিক নাঙ্গলকোটের নাথেরপেটুয়া এলাকার বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১২ আগস্ট নাঙ্গলকোটের আটিয়াবাড়ি এলাকা থেকে মো. মেহেদী (১৮) নামে এক তরুণ অটোরিকশাচালকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর তদন্তে নেমে পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় মূল অভিযুক্ত মানিকসহ শাহেদ, ফাহিম ও সেলিমকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর মানিক আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে মেহেদীকে হত্যা ও তার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করেন।
এই ঘটনার তদন্ত চলাকালেই গত ২৪ আগস্ট নাঙ্গলকোট থেকে মো. আরমান হোসেন (১৫) নামের অপর এক কিশোর অটোরিকশাচালক নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পর আরমানের ব্যবহৃত মোবাইলের সূত্রে অভিযান চালিয়ে একটি খণ্ডিত অটোরিকশাসহ জোবায়ের হোসেন সুজন, নূর আলম ও গিয়াস উদ্দিন নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাদের দেয়া তথ্যে মানিককে আবারও গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মনোহরগঞ্জের বিনয়ঘর এলাকার একটি পুকুর থেকে আরমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের তদন্ত মতে, মানিকের প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল সুযোগ বুঝে অটোরিকশাচালকদের হত্যা করে যানটি ছিনতাই করা। শুধু মেহেদী ও আরমানই নয়, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর শাহজাহান ওরফে সাইমন (১৭) নামের আরেক কিশোর চালককে শ্বাসরোধে হত্যার পেছনেও মানিকের হাত ছিল, যা বর্তমানে বিচারাধীন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান জানান, এই ছিনতাই চক্র ও হত্যার সাথে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি মানিকের সাথে আর কোনো অপরাধের যোগসূত্র রয়েছে কিনা, সে বিষয়ে গভীর তদন্ত চলছে।























