শেষ হতে চলেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসন) ফারজানা আফরোজের এক বর্ণিল কর্মজীবন। কিন্তু মুদ্রার ওপিঠের গল্প রয়ে গেল অমিমাংসিত। তার বিরুদ্ধে ওঠা পদোন্নতি বাণিজ্য, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং আয়কর নথিতে সম্পদের তথ্য গোপনের গুরুতর অভিযোগের কূলকিনারা হয়নি আজও। সব বিতর্ক গোপনে পেছনে ফেলে অনেকটা নিভৃতে চলে যাচ্ছেন তিনি। তবে রেখে যাচ্ছেন অনেক প্রশ্ন।
২০২৪ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে একটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে তার বিরুদ্ধে। যেখানে সদস্য (শুল্ক ও ভ্যাট প্রশাসন) ফারজানা আফরোজের বিরুদ্ধে পদোন্নতি ও পদায়ন সংক্রান্ত বিষয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তোলা হয়। আবেদনটিতে শুল্ক ও ভ্যাট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং আনীত অভিযোগ তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানানো হয়। কিন্তু প্রভাব আর ক্ষমতার কাছে ধামাচাপা পড়ে সেই অভিযোগ।
বিপুল সম্পদের মালিক এই এনবিআর সদস্যের বিরুদ্ধে রয়েছে আয়কর নথিতে সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ। দাখিল করা আয়কর নথি এবং বাস্তব সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্যটাও বেশ স্পষ্ট। রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে ২টি ফ্ল্যাট, উত্তরায় ২টি ফ্ল্যাট এবং কুমিল্লায় একটি ১৪ তলা বিশিষ্ট ভবনের আংশিক মালিকানার বিষয়টি তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটি শুল্ক ও কর কাঠামোর নীতি নির্ধারণী পদে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তার নিজস্ব আয়কর নথিতে এ ধরনের অসঙ্গতি উঠে আসা নিয়ে প্রশাসনিক বলয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্র জানায়, ২০২২ সালে ফারজানা আফরোজের মেয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে হিসাববহির্ভূত ও অস্বাভাবিক লেনদেনের বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান চালানো হয়। উক্ত আর্থিক লেনদেনের উৎস এবং তা আয়ের বিবরণীর সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কি না, সে বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান আলোর মুখ দেখেনি আজও।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে ফারজানা আফরোজের বক্তব্য জানতে তার অফিসে ও ব্যক্তিগত নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ( পর্ব- ১)






















