০৯:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আগস্টে পণ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা, আয় ৪৪৩ কোটি ডলার

  • আপডেট সময় : ০৩:২৬:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 63

আগস্টে পণ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা, আয় ৪৪৩ কোটি ডলার

চলতি বছরের আগস্টে দেশের পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪৪৩ কোটি মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই মাসের (৩৯২ কোটি ডলার) তুলনায় ৫১ কোটি ডলার বা ১৩.১৪ শতাংশ বেশি। মঙ্গলবার প্রকাশিত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস (জুলাই-আগস্ট) মিলিয়ে মোট ৯১৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৮৬৯ কোটি ডলার; ফলে দুই মাসের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৪৭ কোটি ডলার বা ৫.৪৩ শতাংশ।

দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। আগস্ট মাসে এককভাবে এ খাত থেকে ৩৮৯ কোটি ডলার আয় এসেছে, যা আগের বছরের আগস্টের তুলনায় ১৩.৯২ শতাংশ বেশি। দুই মাসের হিসাবে পোশাক খাতের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়ায় ৭৫০ কোটি ডলারে, যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫.১২ শতাংশ। পোশাকের প্রধান দুই উপখাতের মধ্যে আগস্টে নিট পোশাকে ১৪.৮৮ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকে ১২.৭০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে প্রথম দুই মাসে নিট পোশাকে ৬.১৭ শতাংশ ও ওভেনে ৩.৮১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়।

পোশাক খাতের পাশাপাশি অন্যান্য অপ্রচলিত পণ্যের রপ্তানিতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। আগস্ট মাসে পাট ও পাটজাত পণ্যে ৩৭.৯ শতাংশ, ওষুধে ২৮.৫২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ২৪.৮৫ শতাংশ, মুদ্রিত সামগ্রীতে ২৪.৮৩ শতাংশ, প্রকৌশল পণ্যে ২৩.৮৮ শতাংশ এবং অন্যান্য পাদুকায় ১৫.২৯ শতাংশ রপ্তানি বৃদ্ধি পায়। পুরো জুলাই-আগস্টের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অপ্রচলিত খাতের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪১.৮৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে মুদ্রিত সামগ্রী। এছাড়া ওষুধে ৩৮.৯৪ শতাংশ, অন্যান্য পাদুকায় ২৭.৩২ শতাংশ এবং পাট ও পাটজাত পণ্যে ২২.২৬ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

বাজারভিত্তিক বিশ্লেষণের নিরিখে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে আগস্ট মাসে রপ্তানি বেড়েছে ২৬.৯ শতাংশ, এবং অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১১.৯০ শতাংশ। রপ্তানি আয়ের দিক থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাজ্য, যার পরপরই রয়েছে জার্মানি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস। এদিকে উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে আগস্টে তুরস্কে রপ্তানি রেকর্ড ১৪১.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪২.৩৭ শতাংশ এবং সৌদি আরবে ৪২.৯ শতাংশ রপ্তানি বৃদ্ধি নিশ্চিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বৈশ্বিক নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও বাংলাদেশের এই ইতিবাচক ধারা বজায় থাকার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে রপ্তানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি, ক্রেতাদের আস্থা অর্জন, উৎপাদন সক্ষমতার সম্প্রসারণ এবং উচ্চ মূল্য সংযোজিত পণ্যের রপ্তানি বাড়াকে চিহ্নিত করেছেন।

15 September 2026

আগস্টে পণ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা, আয় ৪৪৩ কোটি ডলার

জনপ্রিয়

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের এজিএম নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে সাবেক নারী কর্মীর শ্লীলতাহানির মামলা

Social media & sharing icons powered by UltimatelySocial
error

Enjoy this blog? Please spread the word :)

আগস্টে পণ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা, আয় ৪৪৩ কোটি ডলার

আপডেট সময় : ০৩:২৬:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চলতি বছরের আগস্টে দেশের পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪৪৩ কোটি মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই মাসের (৩৯২ কোটি ডলার) তুলনায় ৫১ কোটি ডলার বা ১৩.১৪ শতাংশ বেশি। মঙ্গলবার প্রকাশিত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস (জুলাই-আগস্ট) মিলিয়ে মোট ৯১৬ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ৮৬৯ কোটি ডলার; ফলে দুই মাসের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৪৭ কোটি ডলার বা ৫.৪৩ শতাংশ।

দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। আগস্ট মাসে এককভাবে এ খাত থেকে ৩৮৯ কোটি ডলার আয় এসেছে, যা আগের বছরের আগস্টের তুলনায় ১৩.৯২ শতাংশ বেশি। দুই মাসের হিসাবে পোশাক খাতের মোট রপ্তানি আয় দাঁড়ায় ৭৫০ কোটি ডলারে, যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫.১২ শতাংশ। পোশাকের প্রধান দুই উপখাতের মধ্যে আগস্টে নিট পোশাকে ১৪.৮৮ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকে ১২.৭০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে প্রথম দুই মাসে নিট পোশাকে ৬.১৭ শতাংশ ও ওভেনে ৩.৮১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়।

পোশাক খাতের পাশাপাশি অন্যান্য অপ্রচলিত পণ্যের রপ্তানিতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। আগস্ট মাসে পাট ও পাটজাত পণ্যে ৩৭.৯ শতাংশ, ওষুধে ২৮.৫২ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যে ২৪.৮৫ শতাংশ, মুদ্রিত সামগ্রীতে ২৪.৮৩ শতাংশ, প্রকৌশল পণ্যে ২৩.৮৮ শতাংশ এবং অন্যান্য পাদুকায় ১৫.২৯ শতাংশ রপ্তানি বৃদ্ধি পায়। পুরো জুলাই-আগস্টের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অপ্রচলিত খাতের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪১.৮৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে মুদ্রিত সামগ্রী। এছাড়া ওষুধে ৩৮.৯৪ শতাংশ, অন্যান্য পাদুকায় ২৭.৩২ শতাংশ এবং পাট ও পাটজাত পণ্যে ২২.২৬ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

বাজারভিত্তিক বিশ্লেষণের নিরিখে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে আগস্ট মাসে রপ্তানি বেড়েছে ২৬.৯ শতাংশ, এবং অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এই প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১১.৯০ শতাংশ। রপ্তানি আয়ের দিক থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার যুক্তরাজ্য, যার পরপরই রয়েছে জার্মানি, স্পেন ও নেদারল্যান্ডস। এদিকে উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে আগস্টে তুরস্কে রপ্তানি রেকর্ড ১৪১.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ায় ৪২.৩৭ শতাংশ এবং সৌদি আরবে ৪২.৯ শতাংশ রপ্তানি বৃদ্ধি নিশ্চিত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বৈশ্বিক নানা প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও বাংলাদেশের এই ইতিবাচক ধারা বজায় থাকার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে রপ্তানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি, ক্রেতাদের আস্থা অর্জন, উৎপাদন সক্ষমতার সম্প্রসারণ এবং উচ্চ মূল্য সংযোজিত পণ্যের রপ্তানি বাড়াকে চিহ্নিত করেছেন।

15 September 2026

আগস্টে পণ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক ধারা, আয় ৪৪৩ কোটি ডলার