চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর ইউসুফ আলী সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবাদত রশিদ জাওয়াদ মাত্র ৪০৭ টাকা পুঁজি নিয়ে রঙিন মাছ চাষের একটি ছোট শখ শুরু করেছিলেন। প্রায় তিন বছর আগে বাবার দোকানের পাশে একটি অ্যাকুরিয়াম দেখে এই মাছের প্রতি তার কৌতূহল ও আগ্রহ জন্মায়। সেই কৌতূহল থেকে শুরু হওয়া ছোট্ট শখটিই আজ তাকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলেছে।
বড় কোনো খামার, কারখানা কিংবা বিশাল পুঁজি ছাড়াই কেবল নিজের শোয়ার ঘরের কোণ ও বারান্দার প্লাস্টিক জার ব্যবহার করে তিনি এই রঙিন মাছের চাষ গড়ে তোলেন। সহজলভ্য ও স্বল্পমূল্যের উপকরণ ব্যবহার করে তিনি এই উদ্যোগ এগিয়ে নিয়ে যান। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে মাছের পরিচর্যা ও খাবার দেওয়ার মধ্য দিয়ে তার কর্মব্যস্ত দিন শুরু হয়। পড়াশোনার পাশাপাশি টানা তিন বছর ধরে নিয়মিত সময় ও নিষ্ঠা দিয়ে তিনি এই চাষ ধরে রেখেছেন।
বর্তমানে স্থানীয় বাজারসহ দূরদূরান্ত থেকে ক্রেতারা এসে জাওয়াদের তৈরি এই রঙিন মাছ কিনে নিচ্ছেন। রঙিন মাছের ভালো চাহিদা থাকায় এখন প্রতি মাসে তার আয় হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। এতে করে পরিবারের ওপর নির্ভরতা কেটে গিয়ে তিনি নিজেই নিজের পড়াশোনা ও ব্যক্তিগত সব খরচ মেটাতে পারছেন। জাওয়াদের ইচ্ছা, লেখাপড়া শেষ করে এই মাছ চাষের উদ্যোগকে আরও বড় পরিসরে প্রসারিত করার।
জাওয়াদের এই উদ্যোগ ও সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ায় এখন বহু শৌখিন মানুষ ও ক্রেতা তার বাড়িতে ভিড় জমান। খুব সীমিত সুযোগ ও সামান্য পুঁজিকে কঠোর পরিশ্রম ও সদিচ্ছা দিয়ে কীভাবে ব্যবসায়িক সফলতায় রূপান্তর করা যায়, জাওয়াদ এখন তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তার এই সাফল্য পুরো এলাকায় যেমন গর্বের হাওয়া বয়ে এনেছে, তেমনি বেকার তরুণদের জন্যও হয়ে উঠেছে বড় অনুপ্রেরণা।























