মাদারীপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রায় ৯ কোটি টাকার চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধ ক্রয়ের ই-টেন্ডার সাইট পরপর দুই দফায় হ্যাক হওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ডিজিটাল এই জালিয়াতির কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়ে দরপত্র জমা দিতে না পারায় সময়মতো ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে গত জুনে বিগত অর্থবছরের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে হাসপাতালে মারাত্মক ওষুধ সংকট দেখা দিয়েছে এবং চিকিৎসাসেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় ই-টেন্ডার আহ্বান করা হলে সাইট হ্যাক হয়। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে গত ১০ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করা হলেও একই কায়দায় তা হ্যাক করা হয়, যার পেছনে শক্তিশালী কোনো সিন্ডিকেট জড়িত থাকতে পারে বলে ভুক্তভোগী ঠিকাদার বিল্লাল হোসেন ফকির দাবি করেছেন। স্থানীয় সচেতন মহল ও গণমাধ্যমকর্মীরা বারবার ডিজিটাল টেন্ডার হ্যাক হওয়ার নেপথ্যের মূল হোতাদের দ্রুত চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. অখিল সরকার জানান, টেন্ডার প্রক্রিয়ার এই বিলম্বের কারণে হাসপাতালে আগত রোগীদের বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, যা জনদুর্ভোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এদিকে ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন মো. খলিলুজ্জামান এটিকে মূলত কারিগরি ত্রুটি হিসেবে উল্লেখ করে জানান যে, মূল সিভিল সার্জন শরীফুল আবেদীন কমল ৩০ অক্টোবর ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পর বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি পদক্ষেপ বা মামলা দায়ের করা হয়নি।






















