মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ৪০ লাখ পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড এবং ৪০ লাখ কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি দেশের সব চা-বাগানের নারী শ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানান। বুধবার দুপুরে আয়োজিত এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি জনগণের দল এবং জনগণের শক্তিই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি। দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে, কৃষক ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ঘোষিত কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করতে এবং গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সরকার জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণেই ব্যয় করতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে অর্থ পাচারের কারণে দেশের সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয়েছে, তবে জনগণের অর্থ আর কোনোভাবেই বিদেশে পাচার হতে দেওয়া হবে না। পাচার রোধ করা সেই অর্থ দেশের মানুষের কল্যাণ, কৃষি, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় করা হবে। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের কাছে এ সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে, যার অংশ হিসেবে চা-বাগানের নারী শ্রমিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং আগামী জুলাই থেকে এক বছরের মধ্যে ৪০ লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড ও আরও ৪০ লাখ পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে।
বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, কৃষক, শিক্ষার্থী, নিম্নআয়ের মানুষ ও স্বাস্থ্যসেবা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতোমধ্যে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে পর্যায়ক্রমে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। অন্যদিকে দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে এবং স্থানীয় শিল্পকারখানা টিকিয়ে রেখে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে কিছু আমদানিপণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী মিজ ফারজানা শারমীন, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ১৫৫ জন উপকারভোগীর মধ্যে প্রতীকীভাবে ১০ জনের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। এর পাশাপাশি ক্যানসার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকজনিত প্যারালাইসিস, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত পাঁচজনকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও নৃগোষ্ঠীর পাঁচজনকে ১০ হাজার টাকা করে এককালীন আর্থিক সহায়তা এবং পাঁচজন শিক্ষার্থীকে শিক্ষা অনুদান দেওয়া হয়। একই সাথে দুঃস্থ, অসহায়, অসুস্থ, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন ১০০ জনকে ১০ হাজার টাকা করে বিশেষ অনুদান এবং পাঁচজন চা-শ্রমিককে ঘর নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তার বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করা হয়।


Md.Rasel Khan 




















