৩৯-এও চিরসবুজ লিওনেল মেসি: রূপকথা মাতিয়ে চলা ফুটবলের জাদুকর
শৈশবে গ্রোথ হরমোনের গুরুতর সমস্যা জয় করে বার্সেলোনার বিখ্যাত ‘লা মাসিয়া’ একাডেমিতে যোগ দিয়েছিলেন এক কিশোর। তারপর থেকে কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা আর নিখাদ জাদুর সংমিশ্রণে একের পর এক প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে তিনি নিজেকে নিয়ে গেছেন কিংবদন্তির কাতারে। তিনি লিওনেল মেসি, যাকে ফুটবল মাঠে নামলেই রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলা খেলার কারণে বলা হয় ‘রেকর্ডের বরপুত্র’। বার্সেলোনার যুব একাডেমি থেকে শুরু করে স্প্যানিশ ক্লাবটির জার্সিতে সম্ভাব্য সব ক্লাব ট্রফি এবং রেকর্ডসংখ্যক ব্যালন ডি’অর জিতে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে নিজেকে অনন্য এক উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন তিনি। বার্সেলোনার সেই সোনালি অধ্যায় পেরিয়ে আজ তিনি আমেরিকার ক্লাব ইন্টার মায়ামির হয়ে মাঠ কাঁপাচ্ছেন। ইউরোপের রাজত্ব ছেড়ে তিনি যখন আমেরিকান ফুটবলে যোগ দিলেন, তখন শুধু মায়ামি ক্লাবই নয়, বরং পুরো দেশের ফুটবল চিত্রকেই এক নতুন স্তরে নিয়ে গেছেন তিনি; যার প্রমাণ মেলে তাকে ঘিরে গ্যালারির আকাশচুম্বী উন্মাদনায়।
লিওনেল মেসি তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে মধুর এবং অবিস্মরণীয় অধ্যায়টি রচনা করেছেন ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে। লুসাইল স্টেডিয়ামে জীবনের একমাত্র অধরা সাফল্যটি হাতের মুঠোয় পুরে সোনালি ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরেন তিনি। এর মাধ্যমে তিনি যেমন আর্জেন্টিনার ৩৬ বছরের দীর্ঘ বিশ্বকাপ আক্ষেপের অবসান ঘটান, তেমনি ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সেরা (GOAT) নিয়ে চলা দীর্ঘ বিতর্কেরও ইতি টানেন। এই বিশ্বমঞ্চেই নিজের ৩৯তম জন্মদিনের ঠিক দুই দিন আগে তিনি গড়ে ফেলেন এক অনন্য বিশ্ব রেকর্ড। টুর্নামেন্টের ২৮টি ম্যাচে রেকর্ড ১৮টি গোল করে বর্তমানে তিনিই বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা। শুধু তা-ই নয়, এই বিশ্বকাপে একাই আর্জেন্টিনার পাঁচটি গোলের সবকটি করার অবিশ্বাস্য কীর্তিও গড়েন তিনি। তাকে ঘিরেই যেন আবর্তিত হয় পুরো আর্জেন্টিনা দল, যেখানে তার দৃঢ় মানসিকতা সবার জন্য এক বড় দৃষ্টান্ত। অতীতে বারবার আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ফাইনালে হেরে গিয়েও তিনি হাল ছাড়েননি এবং শেষ পর্যন্ত সাফল্যের চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছে দেখিয়েছেন।
চলতি সময়ে বয়স লিওনেল মেসির কাছে কেবলই একটি সংখ্যা মাত্র। সাধারণত ফুটবলারদের বয়স ৩০-এর কোঠায় পৌঁছালেই যখন ক্যারিয়ার ফুরিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়, তখন ৩৯ বছরে এসেও মেসি আরও ক্ষুরধার ও যুবকদের মতোই ঈর্ষণীয় হয়ে উঠছেন। মাঠে তার নিখুঁত পাসিং অ্যাকুরেসি, চমৎকার ফ্রি-কিক, পুরো মাঠজুড়ে চষে বেড়ানো এবং এক নিমেষে ম্যাচ বদলে দেওয়ার ক্ষমতা এখনও তরুণদের মতোই সতেজ। ৩৯তম জন্মদিনের এই শুভ ক্ষণে বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের একটাই আকুল প্রার্থনা—মেসি যেন আরও কিছুদিন তার পায়ের জাদু দেখিয়ে ফুটবল বিশ্বকে বুঁদ করে রাখেন। ফুটবল ইতিহাসে পেলে কিংবা ম্যারাডোনার নাম যেভাবে পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়, নিঃসন্দেহে ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে মেসি বা ‘লা পুলগা ‘র নামও। ফুটবলপ্রেমীদের আবেগকে প্রতিনিয়ত রাঙিয়ে দেওয়ার জন্য আজ বিশ্বজুড়ে ভক্তরা কৃতজ্ঞতার স্বরে বলছেন—শুভ জন্মদিন লিওনেল মেসি! চল্লিশের কোঠায় পা রেখেও এভাবেই চলতে থাকুক আপনার পায়ের জাদুর ছোঁয়া।























