রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলা এ অভিযানে প্রায় দুই হাজার দোকান সরানো হয়েছে। তবে অভিযান শেষ হওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই কয়েকটি দোকান আবারও ফুটপাতে বসতে দেখা যায়।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে সরেজমিনে দেখা যায়, মিরপুর-১ নম্বরের শাহ আলী মাজার, শাহ আলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ শপিং কমপ্লেক্স, ছিন্নমূল মার্কেট, ফেয়ার প্লাজা, মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, বাগদাদা ও সনি হল পর্যন্ত সড়ক ও ফুটপাত থেকে দোকান সরানো হয়েছে। এ সময় অভিযান পরিদর্শনে আসেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
উচ্ছেদ অভিযানে দোকান সরিয়ে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, বিকল্প ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করায় জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মিলন নামে এক কাপড় ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমি কাপড়ের ব্যবসা করি। কিন্তু এখন কী করব, জানি না। আমাদের একটা ব্যবস্থা করে দিয়ে তারপর সরানো উচিত। আমরা কাজ করে খাই।’
সাগর নামে এক জুয়েলারি ব্যবসায়ী বলেন, ‘এত দিন ধরে ব্যবসা করছি। এখন ফুটপাত থেকে তুলে দিচ্ছে। আমরাও উঠে যেতে চাই। তবে তার আগে বিকল্প ব্যবস্থা করা উচিত।’
অভিযান প্রসঙ্গে ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ শুধু ফুটপাত উচ্ছেদের অভিযান নয়। আমি বারবার বলেছি, ঢাকা শহরের যেসব জায়গায় এ ধরনের জঞ্জাল রয়েছে এবং যেগুলো আমার প্রিয় নগরবাসীর হাঁটাচলায় বাধা সৃষ্টি করছে, প্রতিটি জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। প্রতিটি জায়গার ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে।’
এদিকে অভিযান শেষ হওয়ার আধা ঘণ্টার মধ্যেই কয়েকজন দোকানিকে আবারও ফুটপাতে বসতে দেখা যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ফল ব্যবসায়ী বলেন, দোকানের মালামাল বিক্রি না হলে সেগুলো নষ্ট হয়ে যাবে। অন্তত মালামাল বিক্রির সুযোগ দেওয়া উচিত। এরপর পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
এর আগে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকাতেও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। সে সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান হকাররা।






















