০৯:৫২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্ধুকে ঘুরতে নিয়ে হত্যা, লাশ ৬ টুকরা; কারাগার থেকে পালানো সোহেল গ্রেফতার

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জহির (২০) হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা (৩৮)কে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। বাহিনীটি বলছে, সোহেল তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু জহিরকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরা করে নদীতে ফেলে দিয়েছিলেন।

সোহেল রানা ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙে পালিয়ে যান। কারাগার থেকে পালানোর পর তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে এসআরবি।

গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার আজিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি-৪-এর মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীটির পদাতিক অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান।

লে. কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, সোহেল রানা ও জহির একই এলাকার প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। জহিরের সঙ্গে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী মো. সুলতানের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে সুলতান সোহেলসহ কয়েকজনের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে জহিরকে হেমায়েতপুরে ঘুরতে নিয়ে যান।

এসআরবির ভাষ্য, বাড়ি ফেরার সময় জহিরকে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর মরদেহ গুম করার জন্য ছয় টুকরা করে পার্শ্ববর্তী নদীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় জহিরের বাবা বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে সোহেলসহ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ২০১৯ সালে আদালত সোহেলকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে তাঁকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়।

কারাগার ভেঙে পালান

এসআরবি জানায়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় কারারক্ষীদের আহত করে সোহেল রানা কারাগার থেকে পালিয়ে যান। পরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে থেকে তিনি বসবাস করছিলেন বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

লে. কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-৪-এর একটি দল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিংগাইরের আজিমপুর এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকেই জহির হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও কারাগার থেকে পলাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার সোহেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাঁকে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।

31 October 2026

বন্ধুকে ঘুরতে নিয়ে হত্যা, লাশ ৬ টুকরা; কারাগার থেকে পালানো সোহেল গ্রেফতার

Spread the love
ট্যাগ :
জনপ্রিয়
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত

এইচএসসি: সেনাবাহিনী পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পাসের হার ৯৬.৫১ শতাংশ

বন্ধুকে ঘুরতে নিয়ে হত্যা, লাশ ৬ টুকরা; কারাগার থেকে পালানো সোহেল গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৭:২১:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে জহির (২০) হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা (৩৮)কে গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। বাহিনীটি বলছে, সোহেল তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু জহিরকে ঘুরতে নিয়ে গিয়ে হত্যার পর মরদেহ ছয় টুকরা করে নদীতে ফেলে দিয়েছিলেন।

সোহেল রানা ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার ভেঙে পালিয়ে যান। কারাগার থেকে পালানোর পর তিনি দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে এসআরবি।

গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মানিকগঞ্জের সিংগাইর থানার আজিমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবি-৪-এর মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাহিনীটির পদাতিক অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান।

লে. কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, সোহেল রানা ও জহির একই এলাকার প্রতিবেশী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। জহিরের সঙ্গে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ী মো. সুলতানের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। একপর্যায়ে সুলতান সোহেলসহ কয়েকজনের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে জহিরকে হেমায়েতপুরে ঘুরতে নিয়ে যান।

এসআরবির ভাষ্য, বাড়ি ফেরার সময় জহিরকে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর মরদেহ গুম করার জন্য ছয় টুকরা করে পার্শ্ববর্তী নদীর বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় জহিরের বাবা বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে সোহেলসহ আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ২০১৯ সালে আদালত সোহেলকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে তাঁকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়।

কারাগার ভেঙে পালান

এসআরবি জানায়, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় কারারক্ষীদের আহত করে সোহেল রানা কারাগার থেকে পালিয়ে যান। পরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে থেকে তিনি বসবাস করছিলেন বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

লে. কর্নেল হাফিজুর রহমান বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসআরবি-৪-এর একটি দল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সিংগাইরের আজিমপুর এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকেই জহির হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও কারাগার থেকে পলাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার সোহেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তাঁকে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।

31 October 2026

বন্ধুকে ঘুরতে নিয়ে হত্যা, লাশ ৬ টুকরা; কারাগার থেকে পালানো সোহেল গ্রেফতার

Spread the love